
* রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যের ১৭.৪ শতাংশ ঘাটতি
* উৎপাদন খাত সঙ্কুচিত- অর্থনীতিতে ‘তারল্য আছে, চাহিদা নেই’ সঙ্কেত
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থের ঘাটতি নেই। বরং তারল্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক। নীতিসুদও কমানো হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহার কমেছে। আমানত বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। কিন্তু এই অর্থের বড় অংশ অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি আটকে আছে ৫ শতাংশের নিচে। বিপরীতে সরকারের ব্যাংকঋণ দ্রুত বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগস্ট ২০২৬-এর প্রধান অর্থনৈতিক সূচকের পর্যালোচনায় অর্থনীতির এই বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়েছে। এক দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসুদ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে এবং এটিকে তুলনামূলকভাবে সহায়ক মুদ্রানীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্য দিকে আগস্টে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জুনেও তা ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ সুদ কমানোর পরও ঋণের চাহিদা বা বিনিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। এখানেই বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু ব্যবসা-বিনিয়োগে সেই টাকা যাচ্ছে না কেন?
তারল্য আছে, ঋণ নেই : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আগস্টে দেশের মোট দেশীয় সম্পদ বা নেট ডোমেস্টিক অ্যাসেটস দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ২৫ লাখ ৫২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতের ঋণ ৭ লাখ ২২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা এবং সরকারের নিট ঋণ ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৬২ কোটি টাকা হলেও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণের অর্থের প্রবাহ একেবারে বন্ধ নয়; কিন্তু এর গতি অত্যন্ত মন্থর। একই সময়ে দেশের ব্রড মানি বা ব্যাপক অর্থ সরবরাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ব্যাংক আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বাড়লেও তার সমপরিমাণ উৎপাদনশীল বিনিয়োগ তৈরি হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধিতে নেট বৈদেশিক সম্পদ এবং নেট দেশীয় সম্পদ- দুই দিকই ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সরকারি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অন্য দিকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। এর অর্থ হলো, অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ছে, কিন্তু নতুন শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সেই টাকা পর্যাপ্ত মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না।
সুদ কমলেও ব্যবসায়ীর স্বস্তি কোথায়?
আগস্টে ৯১ দিনের ট্রেজারি বিলের সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, ১৮২ দিনের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিনের ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। কলমানি সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিসুদ ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারে সুদের হার কমার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু ব্যাংকের গড় ঋণের সুদ এখনো প্রায় ১২ দশমিক ১৫-১২ দশমিক ১৬ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে নীতিসুদ কমলেও ব্যবসায়ীর জন্য ঋণের প্রকৃত খরচ খুব দ্রুত কমেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকের ঋণের সুদ কমলেও আমানতের সুদ অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে স্থির ছিল এবং স্প্রেড কিছুটা কমেছে। ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান ৪ শতাংশে সীমিত করার নীতিও চালু হয়েছে।
এখানে আরেকটি বিপরীত চিত্র রয়েছে। এক দিকে ঋণের সুদ ব্যবসায়ীদের জন্য এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি; অন্য দিকে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। ফলে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফা, বাজারের চাহিদা এবং অর্থায়নের খরচ- সবকিছু হিসাব করেই উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
আগস্টের মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে সামান্য কমেছে। কিন্তু এই পতন এতটা বড় নয় যে উচ্চ সুদ, কাঁচামালের খরচ, জ্বালানি ব্যয় ও দুর্বল চাহিদার চাপকে অতিক্রম করে নতুন বিনিয়োগে বড় ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারের ঋণ বাড়ছে, ব্যক্তি খাত পিছিয়ে
অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যটি দেখা যাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের গতিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ঋণ২০২৫-২৬-এ সরকারের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট ঋণ নেয়া হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে মোট দেশীয় অর্থায়ন ছিল এক লাখ ৬৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদেশী অর্থায়ন ছিল ৫৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, অর্থবছরের শুরুতেও সরকারের ব্যাংকঋণের চাপ কমেনি। জুলাই ২০২৬-এ ব্যাংক থেকে নিট ঋণ নেয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ব্যাংকনির্ভরতা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই চিত্রের সাথে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি বেড়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সরকারি ঋণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের ঋণের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
রাজস্ব বাড়লেও ঘাটতি কাটছে না
সরকারের ব্যাংকনির্ভরতার পেছনে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সমস্যা রাজস্ব আদায়।
অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায় আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। কিন্তু প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যের তুলনায় আদায় হয়েছে মাত্র ৮২ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঋণ২০২৫-২৬-এ এনবিআরের কর আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত করসহ মোট কর রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ২০১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে মোট কর রাজস্ব ছিল ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।
অর্থাৎ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের ব্যয় মেটানোর প্রয়োজনের তুলনায় রাজস্বের সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট নয়। ফলে ঘাটতি অর্থায়নে দেশীয় ঋণের ওপর চাপ বাড়ছে।
সঞ্চয়পত্রেও নির্ভরতা বাড়ছে
সরকারের অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক জাতীয় সঞ্চয়পত্র। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বিপরীতে পরিশোধ হয়েছে ৬ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। ফলে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। পুরো অর্থবছরের জন্য নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ অর্থবছরের শুরুতেই এক মাসে লক্ষ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে গেছে। এতে সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরতার মাত্রাও স্পষ্ট হয়।
অর্থনীতির বাস্তব খাতের চিত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ। বড় শিল্পের উৎপাদন ঋণ২০২৫-২৬-এর জুলাই-মার্চ সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে। আগের বছর এই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ শিল্প উৎপাদনের গতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
এটি বেসরকারি ঋণপ্রবৃদ্ধির দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত। উদ্যোক্তা যদি নতুন কারখানা, যন্ত্রপাতি, সম্প্রসারণ বা কার্যকরী মূলধনে বিনিয়োগ না করেন, তাহলে ব্যাংকঋণের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।
ফলে শুধু সুদ কমিয়ে দিলেই ঋণপ্রবাহ বাড়বে- এমন সরল সমীকরণ বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করছে না।
রিজার্ভে স্বস্তি, কিন্তু পুরো ছবিটি স্বস্তির নয়
বৈদেশিক খাতে অবশ্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আছে। আগস্টের শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে ইচগ৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। জুলাইয়ের তুলনায় উভয় হিসাবেই বৃদ্ধি হয়েছে।
রিজার্ভের এই উন্নতি বৈদেশিক লেনদেনে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। কিন্তু একই সময়ে জুলাইয়ে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ; ফলে মাসটিতে সামগ্রিক ভারসাম্যে ৬৩৩ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল। আগস্টে অবশ্য রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে উঠেছে।
অর্থাৎ বৈদেশিক খাতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ থাকলেও প্রবৃদ্ধির ধারাটি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।
সমস্যা কি টাকার অভাব, নাকি বিনিয়োগের আস্থার সঙ্কট?
বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই। ব্যাংকের আমানত প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। ব্রড মানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। রিজার্ভ বেড়েছে। নীতিসুদ কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজের সুদও কমেছে। তবু বেসরকারি ঋণ বাড়ছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে বড় শিল্পের উৎপাদন সঙ্কুচিত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো পাশাপাশি রাখলে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হয়- বর্তমান সমস্যাকে শুধু তারল্যসঙ্কট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
বরং অর্থনীতিতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যাংকে অর্থ আছে; কিন্তু উৎপাদনশীল বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত চাহিদা, ঝুঁকি নেয়ার আগ্রহ এবং প্রত্যাশিত রিটার্ন- সবকিছু একসাথে কাজ করছে না।
এর বিপরীতে সরকার যখন রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তখন ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের একটি তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেই দেখা যাচ্ছে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেসরকারি খাতের তুলনায় অনেক বেশি।
সামনে তিনটি বড় ঝুঁকি
প্রথমত, রাজস্ব-ব্যয়ের ভারসাম্য। রাজস্ব আদায় লক্ষ্যের নিচে থাকলে ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকনির্ভরতা বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা। ঋণের সুদ কমলেও যদি নতুন বিনিয়োগ না বাড়ে, তাহলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি দুর্বল থাকবে। তৃতীয়ত, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই অবস্থায় মুদ্রানীতি আরো শিথিল করার সুযোগ যেমন সীমিত, তেমনি অতিরিক্ত কড়াকড়ি করলে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার আরো বিলম্বিত হতে পারে।
ফলে আগামী দিনের অর্থনৈতিক নীতির মূল চ্যালেঞ্জ শুধু ‘সুদ কমানো’ নয়; বরং সরকারি ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে নেয়া এবং বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগস্টের সূচকগুলো তাই অর্থনীতির একটি দ্বৈত বাস্তবতা সামনে আনছে- সঙ্কটের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপটি তারল্যের নয়; অর্থের কার্যকর ব্যবহারের। ব্যাংকে টাকা জমছে, রাষ্ট্র ঋণ নিচ্ছে, রিজার্ভ বাড়ছে- কিন্তু নতুন শিল্প, নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা সেই অনুপাতে ঘুরছে না।
এই ব্যবধান যত দীর্ঘ হবে, ততই প্রশ্ন উঠবে- অর্থনীতিতে অর্থের পরিমাণ কত, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন কি এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই অর্থ যাচ্ছে কোথায়?









