বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, ট্রানজিট
সৌর বিদ্যুৎ। ইন্টারনেট

মাত্র চল্লিশ পয়সায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ নেপাল থেকে আমদানির কথা ছিল বাংলাদেশের। ভারতের অনুমতি মেলেনি দেখে আদানির বিদ্যুৎ এখন প্রতি ইউনিট আমদানি করতে হচ্ছে ১২ টাকায়। তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে শুধু ট্রানজিট দেয়নি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নির্ভরতায় আদানি কিংবা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা নিশ্চিত করেছে। ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পর নির্বাচিত বিএনপি সরকার সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ায় এই প্রথমবারের মতো আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন জালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে অচল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আগামী শীত মৌসুমে মেরামত করে সচল করা গেলে পরবর্তী গ্রীষ্ম মৌসুমে সঙ্কট এড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে উঠবে। গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খননে বরাদ্দ গতিশীল করতে পারলে এবং ভোলাসহ বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রে মজুদ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত বা ক্ষুদ্র এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যম সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবেলায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে দেশ। এ ছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে এ খাতে বিনিয়োগ সম্ভব হলে জালানি সঙ্কট দূর হয়ে যাওয়ার একটা গন্তব্য পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। এমনকি চাহিদার অতিরিক্ত পরিশোধিত তেল রিএক্সপোর্ট করা সম্ভব হবে। জালানি বিশেষজ্ঞরা এ জন্য তেল ও এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অদূর ভবিষ্যতের জন্যে বিকল্প জালানি উৎস সন্ধানে জাতীয় কৌশল নির্ধারণে একাট্টা হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আশার আলো সৌর বিদ্যুতে
সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি সোলারিক কাজ করছে বাংলাদেশেও। প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর, প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার বলেন, সৌর বিদ্যুতায়নে এখন খুব একটা বাধা নেই, রেগুলেশনটা হয়েছে, সরকার ফোকাস করাতে সবাই মুভ করছে, ফান্ড অ্যালোকেট করেছে। এডিবির ঋণও মিলেছে। এখন কোয়ালিটি-সম্পন্ন যন্ত্রপাতি যাতে ইনস্টল হয়, এ ক্ষেত্রে যেন কোনো কম্প্র্রোমাইজ না হয়, এসব জায়গায় খুব শক্ত মনিটরিং করতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে এসব বিষয়। এখন সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রেফারেন্স রয়েছে, নতুন প্রযুক্তি নয়; যে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইতোমধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপন করে পরীক্ষা করে দেখছেন ভালোভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন কি না। বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য ও চাহিদার কারণেও মানুষের মধ্যে বিকল্প হিসেবে সৌর বিদ্যুতের আগ্রহ বাড়ছে।
টেকসই সৌর বিদ্যুতের জন্যে সক্ষমতা অর্জনে সঠিক অবকাঠামোর গুরুত্ব দিয়ে প্রকৌশলী আক্তার বলেন, হুজুগে পড়ে সবাই যদি সৌর বিদ্যুতে যেতে চায় তো সেটা মেইনটেইন করাটা কঠিন হবে। প্রপার ওয়েতে এক্সপার্টদের অংশগ্রহণ জরুরি, যাতে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যায়। মানুষ যেনো সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে ভুল না বোঝে, সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বিদ্যুৎ নিয়মিত নয় বলে ব্যাটারিতে স্টোরেজ করে রাখার বিষয়টি ভুললে চলবে না। সৌর বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে আশা করলে অনেকে এ বিদ্যুৎ সম্পর্কে প্রেডিক্টবল বা সঠিকভাবে আঁচ করতে পারবেন না। হঠাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে আবার হচ্ছে না, কম বা বেশি হচ্ছে এ অনিশ্চয়তাগুলো থাকবেই। গ্রিড স্ট্যাবিলিটির জন্যে সৌর বিদ্যুতে আরো লংটার্ম প্ল্যানিং দরকার। স্মার্ট গ্রিড করার জন্যে এডিবি একটা ফান্ড দিচ্ছে। এসব জায়গা ছাড়াও সৌর বিদ্যুৎ স্টোরেজ বা ধরে রাখা এবং ডিভাইস নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে দেশে একটা মোমেন্টাম এসেছে, এটাকে ধরে রেখে লংটার্ম প্ল্যানিং নিতে হবে যাতে সৌর বিদ্যুতে সময়ের সাথে সাথে ধারাবাহিক সফলতা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, সরকার আগামী ৬ মাসে ৪ গিগা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। সবাই পজিটিভলি অ্যাপ্রোচ করলে এটা না হওয়ার কিছু নেই। সবকিছু ঠিকমতো চললে আগামী এক বছরের মধ্যে দিনের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।      
লোডশেডিং যেখানে সৌর বিদ্যুতের অগ্রাধিকার সেখানে
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার সোলার এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ খান সুবায়েল বিন রফিক মনে করেন বাংলাদেশে লোডশেডিংয়ের জোনভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে প্রায়োরিটি দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জালানি সঙ্কট বা মেরামতের অভাবে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদা ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের তুলনায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি শুধু ছাদে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়ে মেটানো সম্ভব। ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে গ্যাস ব্যবহার করে। গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে বলে এনার্জি শিফট একটু পরিবর্তন করে এনার্জি মিক্স করতে এনার্জি ইকোনমিতে কিছুটা রদবদল করতে হবে। তারমানে কোন ধরনের উৎস থেকে আপনি ঘাটতি বিদ্যুৎ সহজে ও কম খরচে উৎপাদনে যেতে পারবেন তার আলোকে কৌশল নির্ধারণ জরুরি।
প্রকৌশলী সুবায়েল বলেন, গণহারে ছাদে সৌর বিদ্যুৎ অ্যালাও করলে এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ পড়বে। কারণ দক্ষ জনশক্তি ও গুণগত মানের যন্ত্রাংশের প্রয়োজন রয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে দিনে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয় যা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এরপর রয়েছে রাজশাহী, ঢাকা ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে সিলেট অঞ্চল। আট জোনে বিভক্ত ডিস্ট্রিবিউশন খেয়াল রেখে লোডশেডিং অনুযায়ী ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্রায়োরিটি দেয়া প্রয়োজন। একই সাথে সরকারি, শিল্প ও সামরিক স্থাপনায় সৌর বিদ্যুতের প্রাধান্য দেয়া উচিত। এর ফলে সোলার মিনি গ্রিড গড়ে তোলা সহজ হবে। খেয়াল রাখতে হবে ব্যাটারি বা সৌর প্যানেল যেন নিম্ন মানের না হয়, দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করে ভালো মানের ইনভার্টারসহ ডিগ্রেশন রেশিও বা অন্যান্য যন্ত্রাংশের মান নিশ্চিত করতে পারলে ১৫/২০ বছর ভালোভাবেই সৌর বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।      
বাংলাদেশের সামনে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের উদাহরণ
সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ কী ছিল এবং এ দু’টি দেশের সফলতা বিশ্লেষণ করেই নীতিনির্ধারকদের এগোতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিয়েতনামে সৌর বিদ্যুতের সাফল্য মূলত সরকারের সুপরিকল্পিত নীতি, আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং বেসরকারি খাতের দ্রুত বিনিয়োগের ফল। আকর্ষণীয় ফিড-ইন ট্যারিফ নীতি ছিল ভিয়েতনামের সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। ২০১৭ সালে ভিয়েতনাম সরকার ঘোষণা করে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালু হওয়া সৌর প্রকল্পগুলো থেকে পরবর্তী ২০ বছর ধরে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ৯.৩৫ সেন্ট (মার্কিন ডলার) নির্দিষ্ট দামে কিনে নেবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা। বাংলাদেশেও সরকার এমন ঘোষণা দিয়েছে তিন বছরের জন্য। এই নিশ্চিত ও লাভজনক দর বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের দ্রুত বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। এর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারে ভিয়েতনাম সরকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে আলাদা প্রণোদনা দেয়। এর ফলে ২০২০ সালের শেষ দিকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় এক লাখ ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেম জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়, যা কয়েক গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করে। বাংলাদেশে সরকার এ ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ সুদে দেড় হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১০ বছরে পরিশোধযোগ্য এ ঋণে প্রথম বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না।
ভিয়েতনামে সৌর বিদ্যুতে সহজ অনুমোদন ও বিনিয়োগ পরিবেশ প্রকল্প অনুমোদনের জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যাওয়ায় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা খুব কম সময়ে অর্থায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারে। তবে এই দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ভিয়েতনামে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর সাময়িক অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং গ্রিড আধুনিকায়নের চ্যালেঞ্জ সামনে আসে, যা মোকাবেলায় তারা ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একই সাথে ভিয়েতনামে দরকষাকষি বা নিলামের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দামে চুক্তি হয়। ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানাগুলোতে ব্যাপক নীতিগত সহায়তায় মাত্র কয়েক মাসে হাজার গিগাওয়াট যোগ হয়। ‘নেট মিটারিং’ নীতি থাকলেও জটিল শর্ত ও প্রশাসনিক ধীরগতি ভিয়েতনামে ছিল না; বরং বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করায় দ্রুত আমলাতান্ত্রিক অনুমোদন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আকর্ষণ এবং কম ঝুঁকি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। অর্থায়নে ভিয়েতনামের ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বিপুল আন্তর্জাতিক বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করেছে। মূলত সরকারি বা উন্নয়ন সহযোগী নির্ভর অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেছে। সহজ ও স্থায়ী শুল্ক নীতি ভিয়েতনামে সৌর বিদ্যুতের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি ছিল।
অন্য দিকে পাকিস্তানের সৌর বিদ্যুতের সাফল্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি সরকারি মহাপরিকল্পনার চেয়ে নাগরিক চালিত অর্থনৈতিক তাগিদ থেকে বেশি এসেছে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির ছাদে সৌর প্যানেল ব্যবহারের হার এক অভাবনীয় বিপ্লবে রূপ নেয়। প্রধান কারণগুলো হলো : জাতীয় গ্রিডের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাম ১৫০%-এর বেশি বৃদ্ধি পায়। ইউনিট-প্রতি বিদ্যুৎ খরচ সাধারণ পরিবার ও ব্যবসায়ীদের নাগালের বাইরে চলে গেলে সৌর বিদ্যুতে বিনিয়োগ করাই অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে লাভজনক হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ অনিশ্চয়তা গ্রিডের দুর্বলতা ও জ্বালানি ঘাটতিতে পাকিস্তানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। চীনে উৎপাদিত সৌর প্যানেলের দাম গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে প্রায় ৬০-৮০% পর্যন্ত কমে গেছে। ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে চীন থেকে পাকিস্তানে রেকর্ড পরিমাণ (প্রায় ১৭ গিগাওয়াট পর্যন্ত) সোলার প্যানেল আমদানি করা হয়। মানুষ বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে সোলার সিস্টেম বসানোর খরচ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে তুলে নেয়। পাকিস্তানের ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ ও কিস্তি সুবিধা দিয়েছে। পাঞ্জাবে শূন্য-সুদে সোলার সাবসিডি স্কিম চালু হয়।
বাংলাদেশ ভিয়েতনামের মতো বিশাল জমিতে সোলার পার্ক না করতে পারলেও পাকিস্তানের ছাদভিত্তিক মডেল অনুসরণ করে খুব দ্রুত জ্বালানি সঙ্কট লাঘব করতে পারে। বাংলাদেশে নেট মিটারিং নীতি থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গতি কম। মিটার অনুমোদন ও গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পেপারলেস, ডিজিটাল এবং সর্বোচ্চ সাত থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করা জরুরি। সোলার সামগ্রী আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে সোলার ইনস্টলেশনের খরচ বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলক বেশি। সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও লিথিয়াম বা ব্যাটারি স্টোরেজ আমদানিতে কর ছাড় দিয়ে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর মতো কম সুদে বা কিস্তিতে সাধারণ মানুষকে ঋণ সুবিধা দেয়া। বাংলাদেশে ব্যাংক ও এনজিওগুলো স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে সোলার লোন দিতে পারে। বিশেষ করে পোশাকশিল্প ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অর্থায়নের ব্যবস্থা ছাড়াও ডিজেল-চালিত সেচ-পাম্পকে সৌর বিদ্যুতে রূপান্তরে দ্রুত গতি প্রয়োজন, যাতে সরাসরি জালানি আমদানির চাপ কমাবে।
পানির নিচেও সৌর বিদ্যুতে বিস্ময়কর সাফল্য
চীনা বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের পানির ১০ মিটার বা প্রায় ৩৩ ফুট গভীরে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন। ইউনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক রোবটের সাহায্যে এই পরীক্ষা চালিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জের পাশাপাশি এলইডি লাইটও জ্বালাতে সক্ষম হন। সিলিকনের পরিবর্তে লেড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সোলার সেল ব্যবহার করায় পানির গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের লাল আলো শোষিত হয়ে যায় এবং গভীর পানিতে নীল ও সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি পৌঁছায়। পানির নিচে সৌর প্যানেলের সফলতা প্রমাণ করেছে যে, আগামীতে সমুদ্রের অস্পষ্ট নীল-সবুজ আলোতেও সৌরশক্তি আহরণ করা সম্ভব।