কিউআর লেনদেনে বছরে ২ লাখ কোটি টাকা বাড়তি কর আদায় সম্ভব : গভর্নর

বাকৃবি প্রতিনিধি

Advertisement

কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে পারলে বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি লেনদেনের খরচও কমানো সম্ভব।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)  প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ সেøাগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: এহতেশামুল হক খান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন এবং ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গভর্নর। 
গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সাথে লেনদেনের খরচ কমবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে। গভর্নর আরো বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা পরিশোধ করলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন। এতে ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে আরো উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব। 
বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসাতে বলেন তিনি।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: এহতেশামুল হক খান বলেন, গভর্নরের নেতৃত্বে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রিকশা ও ছোট দোকানেও যেন সহজে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে লেনদেন করা যায়, সে সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা এবং সিএসআর ফান্ডের আওতায় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সহযোগিতা করবে।