সচিব পরিচয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ : গ্রেফতার ৩

 নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘সচিব’ পরিচয়ে জমি বিক্রি করার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। গ্রেফতারকৃত তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে অপরাধ ও অর্থ ভাগ বাঁটোয়ারার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান এসব তথ্য জানান।
পিবিআই জানায়, রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯) নিজের জমির শেয়ার বিক্রির জন্য একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সে বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারক চক্রের সদস্য সাইফুল ওরফে শাহীন তার সাথে যোগাযোগ করে এবং নিজেকে একজন সচিবের হয়ে জমি কেনাবেচার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। 
ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা তার সামনেই কথিত জমির মালিকের হাতে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেয়ার নাটক সাজায়। এরপর জমি কেনার বায়না হিসেবে ফারুক হোসেনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তথাকথিত জমির মালিকের হাতে তুলে দেন এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। 
পরে বায়নাপত্রের মূলকপি দেয়ার কথা বলে তার কাছে আরো ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা হস্তান্তরের পর বায়নাপত্র না দিয়ে প্রতারকরা নানা টালবাহানা শুরু করে। কখনো কথিত সচিবের অফিসে বা ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া, আবার কখনো কথিত জমির মালিক হাসপাতালে ভর্তি-এমন নানাবিধ নাটক সাজিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এমনকি প্রতারণাকে নিখুঁত করতে ভুয়া স্ট্যাম্প ও ভুয়া উকিলও ব্যবহার করা হয়।
প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই। তাদের কাছ থেকে জালিয়াতিতে ব্যবহৃত ভুয়া স্ট্যাম্প, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) আলামত হিসেবে জব্ধ করা হয়েছে।