অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে কোটি টাকা আত্মসাৎ

  ময়মনসিংহ অফিস

Advertisement

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর শেয়ালধরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেয়া, ভুয়া রসিদ প্রদান এবং গ্রাহকদের অজান্তে হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এবং পাওনা আদায়ে গত বুধবার আউটলেটের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শত শত গ্রাহক।
পোশাক কারখানায় কাজ করে জমানো ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয়পত্রে জমা দিতে দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন উদং মধুপুর গ্রামের শোভা খাতুন। ব্যাংকে এসে তিনি জানতে পারেন, তার জমানো টাকার কোনো রেকর্ড ব্যাংকের নথিতে নেই এবং তাকে দেয়া রসিদটিও পুরোপুরি ভুয়া।
একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন নারায়ণপুরের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শামছুন্নাহার। ঘর তোলার জন্য গচ্ছিত ২৪ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে জমা দিতে গিয়ে তিনি ভুয়া রসিদ পেয়েছেন। এছাড়া চরকাশিনগরের আনসার সদস্য মো: সোহেল মিয়ার সাড়ে ৯ লাখ টাকা এবং মালয়েশিয়াপ্রবাসী কালাম মিয়ার হিসাব থেকে তার স্ত্রীর অজান্তে ১৭ লাখ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আউটলেটটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পরও ব্যাংকের নাম ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অগ্রণী ব্যাংকের কালিগঞ্জ বাজার শাখার অধীন ‘পড়শী সেবালয়’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো: মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিজান ২০২০ সালের জুনে আউটলেটটি শুরু করেন, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ গ্রাহক ছিলেন। অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ২১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আউটলেটটির কার্যক্রম বাতিল করে। তা সত্ত্বেও সেখানে গোপনে লেনদেন চালানো হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৮ আগস্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা গিয়ে চূড়ান্তভাবে সাইনবোর্ড অপসারণ করেন।
কালিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে সঞ্চয়পত্র ইস্যু বা এফডিআর করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক এখতিয়ার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে গ্রাহকদের প্রায় ৬২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকের নথিবহির্ভূত এই অর্থ আত্মসাতের পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট এজেন্ট মালিককেই বহন করতে হবে বলে জানান তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো: মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিজান দাবি করেন, সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। ঘটনার সমস্ত দায় তিনি চাপিয়েছেন আউটলেট ব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম ওরফে সোহেলের ওপর। জানা গেছে, ব্যবস্থাপক সোহেল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।  তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে সিআইডি তদন্তাধীন।
এদিকে, ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে ৬২ লাখ টাকার তথ্য উঠে আসলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তারা বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্তপূর্বক অর্থ ফেরত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।