বাকৃবির ১০ তলা ভবনে নেই লিফট ভোগান্তিতে সহস্রাধিক ছাত্রী

বাকৃবি প্রতিনিধি

Advertisement

বহুতল ভবনে লিফট চালু না থাকায় প্রতিদিন কষ্টকর সিঁড়ি ভেঙে ক্লাসে যাওয়া, ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ কিংবা অসুস্থ সহপাঠীকে নিচে নামানো- সবকিছুতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বেগম খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের। উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও ১০ তলাবিশিষ্ট এই হলের লিফট ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি। ৩৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা হলটিতে বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে, ফলে বহুতল ভবনে লিফটের প্রয়োজনীয়তা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হলের একমাত্র ডাইনিং ও ক্যান্টিনটি নিচতলায় অবস্থিত। ফলে ওপরের তলার শিক্ষার্থীদের দিনে একাধিকবার দীর্ঘ ১০ তলার সিঁড়ি ওঠানামা করতে হয়। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাসের ফাঁকে বিরতি থাকলেও হলের ওপরে ওঠার ক্লান্তির ভয়ে অনেকেই রুমে ফেরেন না। এমনকি অনেকে সিঁড়ি ভাঙার ভয়ে দিনে এক বেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
হলের দশম তলার প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০ তলায় সিট পাওয়ায় অনাহার ও শারীরিক ক্লান্তি আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। একবার ওপরে উঠলে আর নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। সকালে না খেয়েই ক্লাসে যাই, বন্ধের দিনে দুর্ভোগ আরো বাড়ে। রান্না করে খাওয়ারও সুযোগ নেই।
পশুপালন অনুষদের অষ্টম তলার আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীরে এত ওপরে ওঠা অমানবিক। অসুস্থ সহপাঠীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য নিচে নামাতে বা ওপরে তুলতে গিয়ে আমাদের নাভিশ্বাস ওঠে।
বিদ্যমান সমস্যা স্বীকার করে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই শারীরিক কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। ভিসির নির্দেশে শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা বারবার বৈঠকে বসেছি। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হবে।
সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক জানান, জাপানি প্রযুক্তির একটি লিফটের মেশিনসহ স্থাপনের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তিনতলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ট্রায়াল শেষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা সম্ভব হবে। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ পৌঁছালেও আপাতত নিয়মিত সার্ভিসিং নিশ্চিত করে প্রথম লিফটটি সচল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।