
দেশের বিমানবহরে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একইসাথে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে শুরু করবে। ২০৩৬-৩৭ সাল নাগাদ সেগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।’
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করেই এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা, যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের মুখ খুলে বলতে পারবে, আমাদেরও বিমানবহর রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য বিমানবহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাথে আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’ কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা
ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান রোকন। তাদের মতে, বিমানবন্দর নির্মিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরের পক্ষে আর বেশিদিন বাড়তি চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দর নির্মাণ ছোটখাটো অবকাঠামো তৈরির মতো নয়। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।’
শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আশ্বাস
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান রোকন।
শিশুপার্ক স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করা হবে।’ আগামী বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি দৃশ্যমান করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে নিজে কথা বলবেন বলে জানান মন্ত্রী। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
এছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তার মতে, এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু ও ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান রোকন।
সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে টেন মিনিট স্কুলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








