
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাথে বসে বিশ্রাম নেয়ার সময় একটি বেপরোয়া প্রাইভেটকারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক তরুণ নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে ড্রাইভিং সিটে প্রাইভেটকার মালিকের ১৭ বছর বয়সী কিশোর ছেলেকে দেখা গেলেও, থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে তাদের ড্রাইভারকে। ধনীর ছেলেকে আইনি জটিলতা থেকে বাঁচাতে দরিদ্র চালককে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে কাজ শেষ করে ফুটপাথে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী। এ সময় তীব্র গতিতে আসা একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথে উঠে পড়ে এবং মেহেদীকে পিষে দিয়ে রোড লাইটের লোহার খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। বিকট শব্দে গাড়ি ও খুঁটিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মেহেদীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ পথচারীরা গাড়িটি ঘিরে ফেলে গাড়ির ভেতর থেকে দু’জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটককৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন গাড়ির প্রকৃত মালিকের ছেলে কিশোর আযান (১৭) এবং অপরজন ড্রাইভার আকাশ মারুফ (৪০)। আযানের বাবা একটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, গাড়িটি ফুটপাথে চাপা দেয়ার পরপরই এর ডান পাশে থাকা মূল ড্রাইভিং সিট থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোর আযান নেমে আসছে। আর বাম পাশের দরজা দিয়ে বের হন মধ্যবয়সী চালক আকাশ মারুফ। আশপাশের লোকজন জড়ো হলে আযানকে সুকৌশলে একপাশে সরে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি কিশোর আযানই চালাচ্ছিল। কিন্তু রাতে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে শুধু আকাশ মারুফকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
কিশোর আযানকে বাদ দিয়ে আকাশকে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গুলশান থানার এসআই আরেফিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং আকাশকে আসামি করা হয়েছে। ড্রাইভিং সিটে অন্য কেউ ছিল কি না বা সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি জানতে হলে ডিসি স্যারের (ডিএমপির গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার) সাথে কথা বলতে হবে।’ তবে ডিসি অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি।
নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। মাত্র কিছুদিন আগে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন তিনি, আনুষ্ঠানিকভাবে বউ তুলে আনার আগেই চাকায় পিষ্ট হয়ে শেষ হয়ে গেল তার স্বপ্ন। স্বজনদের দাবি, প্রভাবশালীদের চাপে যেন পুলিশ মূল আসামিকে আড়াল না করে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








