
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ইউরোপ থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনা নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছেন, আমি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর জোর দিচ্ছি। কেননা আমি মনে করি এটা অত্যাবশ্যকীয় এবং বর্তমান সরকারের জন্য ভালো পরীক্ষা। এই সরকার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতি আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘ডিকাব টক’ নামে পরিচিতি এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৪টি বোয়িং কেনার জন্য চুক্তি সই হয়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোয়িং থেকে আরো ১১টি উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে। ইতঃপূর্বে পতিত আওয়ামী সরকার ইউরোপ থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় সেই এমওইউ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এয়ারবাস একটি ইউরোপীয় বহুজাতিক কোম্পানি। বর্তমান সরকার ১০টি এয়ারবাস কেনার জন্য আলোচনা করছে।
এয়ারবাস বিক্রিকে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূত শারলে বলেন, ১০টি উড়োজাহাজ বড় চুক্তি না, কিন্তু এটা আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু। বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সাথে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে যাওয়ার জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে বাংলাদেশ ইচ্ছুক, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা অংশীদারিত্বে বিশ্বাস করি। আপনি একটি চুক্তি করবেন এবং আর সরে পড়বেন, এমনটাতে আমরা বিশ্বাস করি না। এভাবে আমরা কাজও করি না। আমরা সত্যিকারের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে চাই, যেভাবে অনেক ফরাসি কোম্পানির সাথে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এটা এমন নয় যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর শেষ হয়ে গেল। এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীরদারিত্বে যুক্ত হওয়া।
ইউরোপকে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসাবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকায় ১৭ শতাংশের বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের ৪৮ শতাংশ যায় ইউরোপে। এটা তিন অনুপাত এক। ব্রিটেনকে অন্তর্ভুক্ত করলে এই অনুপাত আরো বেশি হবে। সুতরাং ইউরোপই বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। আমরা যখন বাংলাদেশী বন্ধুদের সাথে আলাপ করি, তখন কেবল একটা বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে, আমাদের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।
এয়ারবাসের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলোচনার সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল, তা তুলে ধরে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, মিশ্র উড়োজাহাজের বহরের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উন্নত কারিগরি কারণে বিমান এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, রাজনৈতিক কারণে নয়। বিশ্বের বহু বিমান সংস্থা এয়ারবাসকে গ্রহণ করেছে, বিমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
এয়ারবাসের সাথে আলোচনার মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িং থেকে বিমানের উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এয়ারবাসের সাথেও আগ্রহ বজায় রেখেছে বিমান। এতে সময় লাগতে পারে। তবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি দরকষাকষি এখনো ভালোভাবে চলছে এবং ভালো ফলও আসছে।
বাংলাদেশের সাথে মুক্তবাজার চুক্তি (এফটিএ) সই নিয়ে শারলে বলেন, আপনি যদি না চান, আপনার যদি মনে হয় এফটিএ নিয়ে আগানো ভালো কিছু হবে না, এটা আপনার সিদ্ধান্ত। হয়তো ইউরোপীয় দেশগুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা এফটিএ চায় না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। সুতরাং ঢাকা ইউরোপে কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটা গুরুত্ব বহন করে।
এফটিএ হলে ইউরোপের ২৭টি দেশে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যের পরিসর বড় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেসব বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সরকারের বাস্তবায়নাধীন রাজনৈতিক সংস্কারই হোক কিংবা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ হোক- সেসব ক্ষেত্রে ফ্রান্স সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন করে।
ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ও কল্যাণকামী অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে শারলে বলেন, সঙ্ঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, বহুপাক্ষিকতা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমরা উভয় দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








