বছরে ১৩ লাখ টন বীজের চাহিদা মান নিয়ন্ত্রিত মাত্র ৩০ শতাংশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

 

* বিএআরসির কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা
* কৃষির ঝুঁকি কমাতে মানসম্মত বীজ নিশ্চিতের তাগিদ

বাংলাদেশে কৃষি খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন বীজের চাহিদা থাকলেও এর মাত্র ৩০ শতাংশ বীজ ‘ফরমাল’ বা মান নিয়ন্ত্রিত ও পরীক্ষিত। বাকি বীজের মধ্যে ৪০ শতাংশ সেমি-ফরমাল এবং ৩০ শতাংশ কৃষকের নিজস্ব সংরক্ষিত। কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরি করতে মানসম্মত ও পরীক্ষিত বীজের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ক্যাম্পাসে সার্ক কৃষি কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনে কর্মশালার প্রথমদিন এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করে বিএআরসি। 
কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, কৃষিতে উৎপাদন ও ফলন বাড়াতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই ফরমাল সিড ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। মানসম্মত ও পরীক্ষিত বীজের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বীজ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা, বিশুদ্ধতা, স্বাস্থ্য, সঠিক লেবেলিং এবং সংরক্ষণ ঝুঁকি বর্তমানে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সঠিক মানের বীজ সঠিক সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং কম হারে বীজ প্রতিস্থাপনের কারণে জাতের অবক্ষয় ও রোগের বিস্তার ঘটছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও অপর্যাপ্ত শুকানোর কারণে বীজ সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। এ সময় তিনি মৌসুম শুরুর আগেই মাঠপর্যায়ে বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
আমদানিনির্ভর বীজের ঝুঁকি প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম আরো জানান, বৈদেশিক মুদ্রা, জাহাজীকরণ, ফাইটোস্যানিটারি বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্কটের কারণে বীজ আমদানিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশীয় পর্যায়ে মানসম্মত বীজের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইব্রিড ফসলের চাষাবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) হাইব্রিড রাইস বিভাগের প্রধান মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: জামিল হাসান। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উন্নত গুণগত মান এবং উচ্চ ফলনের কারণে কৃষকরা এখন প্রথাগত জাতের চেয়ে হাইব্রিড জাতের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। সাধারণ উফশী জাতের তুলনায় হাইব্রিড ফসলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং কিছু কিছু সবজির ক্ষেত্রে ফলন ৮০ শতাংশের বেশি বাড়ে। পাশাপাশি হাইব্রিড ফসল তুলনামূলক কম সময়ে ঘরে তোলা সম্ভব হয়।
কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন বীজ বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আকতারর হোসেন খান এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব সিড টেকনোলজির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান আলী। কর্মশালার সমন্বয় করছেন বিএআরসির পরিচালক (জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ ইউনিট) ড. মো: মাহফুজ আলম। পরিচালনা করেন প্রধান প্রশিক্ষক মো: আল মোবাচ্ছের হোসেন। 
 এ সময় বিএআরএফ সদস্য ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বিএআরএফের সভাপতি মো: নিজামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজমসহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।