ডাক্তারের অ্যাপ্রোন পরে রোগী ভাগানোর চেষ্টায় নারী আটক
ডাক্তারের অ্যাপ্রোন পরে রোগী ভাগানোর চেষ্টায় নারী আটক নয়া দিগন্ত

 

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারের এপ্রোন পরে রোগীদের সাথে কথা বলা এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে শারমিন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারেন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। খবর পেয়ে পিসি মো: সাদেক হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি আনসার দল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের একপর্যায়ে ৩১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটিরত ডাক্তারের এপ্রোন পরিহিত অবস্থায় শারমিন আক্তারকে দেখতে পান আনসার সদস্যরা। এ সময় তার পরিচয় ও হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে নিজেকে ডাক্তার দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই নারী ডাক্তারের এপ্রোন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আনসার সদস্যরা নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

অভিযানে অংশ নেয়া আনসার সদস্যরা হলেন পিসি মো: সাদেক হোসেন বাচ্চু, এপিসি মো: শফিকুল ইসলাম এবং আনসার মো: আকিদুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই নারীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একইসাথে দালালি, প্রতারণা কিংবা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অন্যত্র নেয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের দায়িত্বশীল তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।