চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মিতা ৬ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মিছিল, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতাকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার একটি বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এমপি মিতাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমকেও গ্রেফতার করা হয়।
এরপর গতকাল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো: মাসুদুর রহমান। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতক সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং ককটেল বোমার মূল উৎস উদঘাটন করা প্রয়োজন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানান, এ মামলায় আগে গ্রেফতার চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই মিতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ ছাড়া মিতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে তিনটি মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি ঢাকায় মিছিল বের করা, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে মিতার জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি দাবি করেন, আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত নন। মিতা একজন সাবেক এমপি এবং তিনি বর্তমানে অসুস্থ, তাই ১০ দিনের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মিতাকে ছয় দিন এবং চালক সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়া হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করে।