হাম উপসর্গে আরো ৬ জনের মৃত্যু

 নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

দেশে হামের উপসর্গে রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন করে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছে। তবে এ সময় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে একই সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন মোট এক হাজার ৩০৫ জন। এর মধ্যে এক হাজার ২২১ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২১৫ জন, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে এক হাজার ২২৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট এক হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯৬২ জন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনের। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ২০ হাজার ৬৪৬ জন। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ এক হাজার ৬৮১ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন।
চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৪৯৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৭২, রাজশাহীতে ৯৬, ময়মনসিংহে ৮০, চট্টগ্রামে ৮৬, বরিশালে ৭৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
সিলেটে ফের ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর ফের হাম ও উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩৫ জনে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২ জনে। গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়নি। তবে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৩ জন, এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারজন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
সর্বশেষ মারা যাওয়া দু’জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাত মাসের সাম্য, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার এবং দুই বছর দুই মাসের ফারিয়া একই জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা।