২৯ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চান টিপু সুলতান

 নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড রহমতগঞ্জ। এই এলাকার বাসিন্দা হাজী টিপু সুলতান। বনেদী ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে তিনি। টিপু সুলতান নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী। সাথে ক্রীড়া সংগঠকও। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য। বাফুফের পাইওনিয়ার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান। সেই সাথে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক। টিপু সুলতানদের পরিবার অনেক আগ থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সেই ধারায় টিপু সুলতানও বিএনপি সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য। এখন তার লক্ষ্য, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করা। তিনি জানান, ‘আমি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে ৭৫টি ওয়ার্ড আছে এর মধ্যে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করাব। 
বিএনপির রাজনীতি করার কারণে হাসিনা সরকারের আমলে অনেক জুলুম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে টিপু সুলতানকে। তিনি জানান, ‘আমার নামে ৪৯টি মামলা হয়েছে। আরেকটি মামলা হলে মামলার হাফ সেঞ্চুরি হতো।’ জেল খেটেছেন। আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১৫ সালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচন করতে গিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। 
হাজী সেলিমের দেয়া মামলার কারণে টিপু সুলতানসহ তার পরিবারের সদস্যরা জেল খেটেছেন। টিপুর দেয়া তথ্য, ‘আমি এলাকায় থাকতে পারতাম না। তিনি বলেন ২০২৪ সালে নারী বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর গুলশানের এই হোটেলে অবস্থান করছিলাম। সে সময়ে রাত ২টার সময় সিআইডি আমাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার সাথে ছিল  এক ব্যবসায়ীর পেমেন্ট ২৬ লাখ টাকা। সেটিও নিয়ে যায় সিআইডির এএসপি রাজীবের নেতৃত্বে আসা দলটি। আমার সাথে বৈধ বিদেশী ডলার, দামি পারফিউমসহ ও অন্যান্য সামগ্রী ছিল । সেগুলোও নিয়ে যায়। এরপর আমাকে পাঁচ দিন অন্ধকার রুমে রাখা হয়। আমার পরিবার জানতে পারেনি আমি কোথায় ছিলাম। পরবর্তীতে আমি এক মাস জেল খেটেছি।’ তার মতে, ‘জেলখানায় গিয়ে বিব্রত কর অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হয়েছি। সেখানে কোনভাবেই থাকার মতো পরিবেশ নেই। যা কিছু সুযোগ-সুবিধা সবই টাকার বিনিময়ে। ওই এক মাসে মোটামুটি ভালো থাকতে আমাকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। তিনি জানান, ‘নানা ঝড় ঝাপটার পরও মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এখন আমি এই ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য কাউন্সিলের পদে নির্বাচন করতে চাই।’ 
পারিবারিকভাবেই টিপু সুলতানরা এলাকার নেতৃত্বে। তার চাচা হাজী আবদুল মান্নান মাখন সাহেব তৎকালীন ২৬ নম্বর শিটের পৌর কমিশানর ছিলেন দীর্ঘ সময় ( সদরঘাট লালকুটি থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত)। টিপুর বড় ভাই হারুনুর রশীদ প্রথমে এলাকার কমিশনার ও পরে সংসদ সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই আমিনুর রশীদও ছিলেন কমিশনার। আরেক ভাই হানিফ ডাবলুও ছিলেন বিএনপির নেতা। পারিবারিক ঐতিহ্যের সেই ধারাক্রমে এবার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান টিপু।  টিপু জানান, অসুস্থ থাকার পরও হানিফ ডাবলুকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তা আমি বিএনপি করার কারণে। হানিফ ডাবলুর ছেলে রনিকে বিএনপি করার অপরাধে হাজী সেলিম মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘ দিন কারাগারে বন্দী রাখে। 
টিপু আরো বলেন, ‘যদি আমি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হই তাহলে আমার মূল লক্ষ্য হলো আমার ওয়ার্ডের  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন করা,  সব ধরনের অপরাধ বন্ধ করা, এলাকার অলিতে গলিতে সবসময় লাইটের ব্যবস্থা করা যাতে করে কোনো ধরনের অপরাধ না ঘটে। সেই সাথে জলাবদ্ধতা দূর করতে চাই ড্রেনেজ ও সুয়ারেজস ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে। তিনি জানান, এ ছাড়া এলাকাবাসীর বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক যে সমস্যার উদ্ভব হবে সেগুলোর সমাধান করাও আমার দায়িত্বের অংশ। এ ছাড়া যেহেতু ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরকারেরই অংশ তাই সরকারি সব নির্দেশনাই পালন করা হবে। সে সাথে আমাদের যে সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ভাই ওনার পরামর্শ ও নির্দেশনাগুলোও অনুসরণ করব। তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সে আলোকে দেশকে এটা আধুনিক রূপে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। আমিও ওনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে পুরো ঢাকাবাসী বলতে পারে টিপুর ওয়ার্ড একটি রোল মডেল।