ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। নয়া দিগন্ত

মালতিনগরের মফিজ মিয়ার মতিগতি, ভাবভাবনা, ভালো-মন্দ জ্ঞান, তার সরল সহজ সরল গতি প্রকৃতি ইদানীং কেমন যেন স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে। মফিজ কখনো নিজেকে সবজান্তা মনে করত না; কিন্তু তার মনের মধ্যে যে মন-মহাজন বাস করে সে এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জ্বালায় তাকে তার সাক্ষাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে বসে আছে। মনের ঐক্য, ভাবের ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে। এতদিন মফিজ মিয়ার মাথায় ভালো-মন্দ চিন্তার চাষবাস হতো, তাকে আলাদা করে যত্নআত্তি দেখাশোনা করার, যাচাই বাছাই করার সুযোগ ছিল। এখন ওষুধের প্রেসক্রিপশন পর্যন্ত গুগলে সার্চ করে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পড়ে বা জেনে নিতে হচ্ছে! ‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’ সীতানাথ বসাকের বই পড়ে মফিজ মিয়া যা জেনেছিল, তাও সত্য-মিথ্যার বাছবিচারে তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে। সততাই সর্বোত্তম পন্থা কথাটা মাথায় কাজে লাগাতে পারছে না মফিজ মিয়া। কেননা ইউটিউব, ফেসবুক,  হোয়াটসঅ্যাপরা এখন বন্ধু বেশে সেজেগুজে গুজবে সচিত্র সমাহারে এত বেশি সক্রিয় যে, মফিজ মিয়ার সত্তরোর্ধ্ব স্ত্রী, মাঝবয়সী ভাতিজা, ভাতিজার মেয়ে, এমনকি হাঁটতে শিখেছে সেই পিচ্চিও এখন মোবাইল ফোন চায়। রিমোট কন্ট্রোলে কার্টুন ছবির এমন পাগল যে, তার খাওয়াদাওয়া ঘুম পাড়ানো সব যেন সাবলেট দেয়া হয়ে যাচ্ছে। শ্রীমান চ্যাটজিপিটি সবজান্তা সেজে সৃজনশীলতা, পরোপকার, নীতিনির্ভরতা থেকে সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র-সমস্যা না মিটিয়ে চলতে পারলে কারোর নিস্তার নেই— এ উদ্বেগ মফিজ মিয়াকে স্বৈরাচার হওয়ার পথে তুলে দিচ্ছে। 
ইদানীং মফিজ মিয়া চোখে সরষে ফুল দেখতে পায়। সরষের ফুল দেখতে তো ভারি সুন্দর; কিন্তু দূর থেকে। রোদ আর সরষে ফুলের জিল্লতিতে তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। মফিজের মনে দারুণ যাতনা তরুণসমাজ বিপথে চলে যাচ্ছে, মস্তিষ্ক প্রক্ষালক বয়স্ক বালক বলে ফেলে, তরুণরা তরুণই থেকে যাবে। জিপিএ ফাইভ পাওয়ার কসরত করতে গিয়ে অভিভাবকের আউট অব পকেট খরচ বাড়ছে। শিক্ষক, শিক্ষায়তন ও শিক্ষার পরিবেশ রচনার নাম করে পাবলিক ফান্ডের টাকা ব্যয় বেড়ে চলছে। শিক্ষকের বেতন, শিক্ষায়তন বানানো ও রক্ষণাবেক্ষণে দেশী-বিদেশী ঋণ নেয়া হচ্ছে, সেই ঋণের দায়দেনা শোধ করতে গিয়ে লেখাপড়া পরীক্ষা পাস-নির্ভর হয়ে পড়ছে। পরীক্ষায় টাইট না দিয়ে উপায় নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেট ইউনিভার্সিটির ফটকে একটি মূল্যবান বাণী উৎকলিত আছে। মফিজ মিয়ার মনে পড়ছে— 
‘কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে পারমাণবিক বোমা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এর জন্য কেবল শিক্ষার মান কমিয়ে দেয়া এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নকল বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ দেয়াই যথেষ্ট।’ বাণীটিতে এর পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে— এ ধরনের চিকিৎসকদের হাতে রোগীর মৃত্যু ঘটে। এ ধরনের প্রকৌশলীদের হাতে তৈরি দালানকোঠা ভেঙে পড়ে। এ ধরনের অর্থনীতিবিদ ও হিসাবরক্ষকদের হাতে অর্থ লোপাট বা অপচয় হয়। এ ধরনের ধর্মীয় পণ্ডিতদের হাতে মানবতার মৃত্যু ঘটে। এ ধরনের বিচারকদের হাতে ন্যায়বিচার হারিয়ে যায়। বার্তাটির উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার পতন মানে একটি জাতির পতন’। তাই পাসনির্ভর পরীক্ষা, ন্যায়নীতি নৈতিকতাপরিপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা থেকে বের হতে হবে। শিক্ষকরা যদি অভিভাবকের বা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সম্মান ও সমীহ পেতে চান, তাহলে তাকে দায়িত্বশীল হতে হবে শতভাগ। সরকারি বেতন পাওয়ার ব্যাপারে তাদের দায়িত্বশীল বা জবাবদিহির দাবি রাষ্ট্রকে মেটাতে হবে। শিক্ষকদের জন্য পাবলিক মানি বা করের টাকা উজাড় করে দিতে হলে তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স জনবহুল দেশে বেকারত্বের বোঝা বাড়াবে, কর্মহীন হচ্ছে বা হবে কোটি কোটি মানুষ। মানুষই যদি না বাঁচে তাহলে রোবট বা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে কী হবে, মফিজ মিয়ার বুঝে আসে না। সুতরাং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবোত্তর পরিবেশে কিংবা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের থাবা থেকে সৃজনশীল, কর্মযোগী মানুষকে রক্ষ বা উদ্ধার করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এআই বা চ্যাটজিপিটি এখন আপাত মনে হচ্ছে বিনা ব্যয়ে সেবা দিচ্ছে; কিন্তু সেই ফ্রি চা খাইয়ে চা-পানে আসক্ত করার পর চা বাবদ খরচ বেড়েছে সবার। সুতরাং পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। পুঁজিবাদী বিশ্ব নানান ফন্দিফিকিরে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আরো কিভাবে কুক্ষিগত করা বা রাখা যায় সেটি দেখাতে থাকবে। 
আজকাল টিকটিকির কাজ করারও ভোল পাল্টাচ্ছে। এখন নানাভাবে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ যাচাই বাছাই চলে। ফেসবুক, গুগল চাচা আছেন না? মোবাইল ফোনে এখন কথা রেকর্ড করা ও ছবি তোলা যায় সংগোপনে। একজনের মাথা আরেকজনের শরীরে লাগানোও নাকি যায়। হোমরা-চোমরাদের গ্রুপ ছবিতে দাগি আসামিকে পরে ইনসার্ট করাও যায়। কতকিছু। রঙিন পোশাকধারীরা সাদা পোশাকেও এ কাজে নামতে পারেন। 
মফিজ মিয়ার তালতো ভাই রফিকুল ইসলামের বিশেষ চাকরি পাওয়ার সময় কোনো কোটা মানার দরকার হয়নি বলে ব্যাপারটি তার অধীত বিদ্যার মধ্যে আসেনি। তার সিলেবাসেও এমন কিছু ছিল না। পাস করতে তাকে তেমন পরীক্ষাও দিতে হয়নি। তাই প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারও মাথায় আসেনি। লিডারের কথামত চলত বলে তার এ ধরনের বিশেষ চাকরি হয়েছে। জেলা, মেধা, গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো সনদপ্রাপ্তির বিচারবিবেচনা বিশেষ চাকরি পাবার সময় এসব কিছু প্রয়োজন পড়েনি। তাই রফিকুলের কাছে ব্যাপারটা প্রথমে তেমন ঠাহরে আসেনি। একই গঞ্জে বাড়ি আরেক সহকর্মী আবদুল মিয়া সে দিন হঠাৎ করে রফিককে জিগায় ‘ওস্তাদ ভাইভার প্রশ্ন ফাঁস হয় কেমনে’? তাইতো। রফিক এটাও ভেবে দেখেনি। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয় জানি। ১৮ বিষয়ের মধ্যে ১২ প্রশ্ন পর্যন্ত ফাঁস হয়। গ্রোথ রেট খারাপ না। জিডিপির চেয়েও বেশি। এই রফিকুল ইসলাম সেবার বিশেষ প্রতিবেদন দেয়ার সময় বেশ বিপাকে পড়েছিল। একটি পত্রিকায় কার্ল মার্কসের ওপর সে সময়কার একটা গোপনীয় প্রতিবেদন বাংলায় অনূদিত হয়ে ছাপা হয়। জার্মান বিশেষ প্রতিবেদক  খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কার্ল মার্কসের মতো নেতাকে তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে প্রতিবেদন দেয়। কার্ল মার্কসের বড় ঘরের বড় টেবিলটার ওপর কোন্ জিনিস কিভাবে আছে তা এমন নিখুঁতভাবে তুলে ধরে, তাতে কার্ল মার্কস সাহেবের স্বভাবচরিত্র মনোভঙ্গি ব্যক্তিচরিত্র খোলস ও মুখোশের ছবি যেন উঠে আসে বর্ণনায়। তখন তো মোবাইল ফোন বা সেলফি তোলার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্ণনার চাতুর্যে তার সবকিছু ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। রফিকুল ইসলামের এবারের সমস্যা হলো সমস্যার মধ্যে সমস্যা লুকিয়ে থাকার সমস্যাটা তার ধরতে সমস্যা হয়েছে। যে বিষয়ে যে ক্ষোভ, যে আন্দোলন তা আপাত দৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক মনে হয়েছিল রফিকুলের। রফিকুল ভেবেছিল কতিপয় ক’জন আছে এর পেছনে। যেন তাদের শ্রেণী পরিচয় ও চরিত্র এপাশ-ওপাশ করে দিতে পারলে তার প্রতিবেদন শুধু কেন, পুরো ব্যাপারটা থেকে পার পেয়ে যাবে সবাই। 
সিলেবাসের বাইরে পড়াতে গিয়ে আঁতেল টাইপের এক কলেজশিক্ষক একদিন বলেছিলেন, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে পারার চেয়ে চালাকি আর নেই। বিপ্লব ঠেকাতে যে আন্দোলন করবে সেই আন্দোলনকে অন্যের দ্বারা অতিমাত্রায় কিছু করিয়ে তার ওপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারলে প্রসঙ্গকে সাজঘরে পাঠানো সহজ হয়। সেই অধ্যাপক চাণক্য পণ্ডিতের কথা বলেছিলেন। যেকোনো বিষয়ের দোষ চলমান কোনো নেতিবাচক ব্যবস্থাপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারলে কেল্লা ফতেহ। রফিকুল সেরকম একটি নাটক কিভাবে সাজানো যায় এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে দেখা গেল মহানাটক হওয়ার জোগাড়যন্ত্র শেষ। অতি বিচক্ষণরাও যে এ নাটক বোঝার মতো জ্ঞান-কাণ্ডজ্ঞান ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে, এটা নাট্য পটিয়সীদের মাথায় ঢোকেনি। নেড়া দু’বার বেলতলায় যায় না, এটা তারা বুঝতে পারেননি। ফলে যা হওয়ার তাই হলো; কেমন যেন ফুলেফেঁপে উঠল সবাই, সবকিছু। ‘ভাঙা রেকর্ড বাজাবার’ মওকা মতো বা ভিন্ন নাম পরিচয় দেয়ার বা দেখাবার টেকনিকটাও বুমেরাং হয়ে দেখা দিলো। ব্যাপারটা এমন হবে রফিকুল বুঝে উঠতে পারেনি। 
সরকারি চাকরিকে সোনার হরিণ মনে করে অধিক হারে উৎকোচ দিয়ে কিংবা ভিন্নপথ পন্থায় মেধাবীদের হটিয়ে অমেধাবীরা এসে দখল করছে সবকিছু। মেধাবীদের হটানোর আরেকটি উপায় কোটার নামে অনেকের অহরহ চাকরি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি। বেসরকারি খাতে যেখানে চাকরি বেশি, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাতে বা আর্থিক খাতে ভালোমানের চাকরিগুলোতে (সুপারভাইজার, ডিজাইনার, ম্যানেজার) দেশী শিক্ষিতরা দাঁড়াতে পারছে না। ফলে সেখানে বিদেশীরা এসে বেশি বেতনে সেসব চাকরি বাগিয়ে নিচ্ছে। দেশের শিক্ষিত বেকারের লাইন বড় হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাকরির বয়স চলে গিয়ে যারা স্থায়ী বেকারের সারিতে শামিল হচ্ছে, তাদের লাইন বড় হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের ঢোল পেটানো হচ্ছে, উন্নয়নশীল হওয়ার পথে পা বাড়ানোকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সেই ডিভিডেন্ট ডিজাস্টারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা এবং উন্নয়নশীলে টিকে থাকতে প্রয়োজন গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষার শক্তিতে বলবান দক্ষ জনবল, সে বিষয়ক বিচার বিবেচনা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণায় যেন সবাই। 
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছে সবাই। বের হওয়ার পথ পেতে হবে। একধরনের বঞ্চনাবোধ সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে দানা বাঁধতে না পারে, বিষয়টির গভীরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোয় অভ্যস্তরাও কয়দিক সামাল দেবেন এমন একধরনের ব্যতিব্যস্ততায় বিষয়টি বেমালুম ভুলতে বসা সমীচীন হবে না। ঈশান কোণে কালো মেঘ এখনো আছে। মফিজ মনে করে আকাশে ঝড় বৃষ্টির পাকসাক হচ্ছে। অসময়ে বিদ্যুৎ ঝড়ের মতো আচমকা হতভম্ব করে দিতে পারে সবাইকে। 
মফিজ মিয়ার মনে পড়ে এই মাত্র কয়েক বছর আগে অতিমারী করোনার আক্রমণের লক্ষ্য বা  প্রধান প্রতিপক্ষ  ছিল সমাজ ও পরিবারবিচ্ছিন্ন একেকজন  মানুষ। সেই একেকজন মানুষের মনমানসিকতায়, মূল্যবোধে, উপলব্ধিতে, আচার আচরণে, বিচারবিবেচনাবোধে, আত্মবিশ্বাস ও শক্তিতে, আত্মশুদ্ধিতে কেমন পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল তা বেমালুম ভুলতে বসছে সবাই।  করোনাকালে সহজে সংক্রমণের ভয় ঢুকিয়ে, প্রতিরোধ ও প্রতিষেধকের ধোঁয়াশে পরিস্থিতিতে মানুষ সামাজিক দূরত্বে থাকার নামে পরিবার ও আপনজনরাও সে সময় সহানুভূতি জানাতে ভয় পেয়েছিল। এমনকি স্থানীয় লকডাউনের নামে প্রচণ্ড অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছিল এই মানুষকে। আক্রান্ত বলে কথিত পরিবারের শিশুসহ ছয়জনকে ঘরে আটকাতে ছয়টি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল  প্রতিবেশীরা; এই ছবি সামাজিক মিডিয়ায় এসেছিল। পরিবেশ প্রতিবেশে অভূতপূর্ব অনেক কিছু ঘটছিল, যা প্রচারে নিত্যবেদনা ও বিস্ময়ের উদ্রেক করে। করোনা আক্রমণের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের মাত্রা এবং এর এখতিয়ার এত ব্যাপক হয়েছিল যে, এর সাথে তালমিলিয়ে চলা যেমন কষ্টকর হয়েছিল, তেমনি নিকট অতীতকেও স্মরণে আনার ফুরসত কমে যাচ্ছিল। মূল্যবোধের বিব্রতকর পরিবর্তনে সবার মনে সমস্যার সমাধান নিয়ে এখনো নানা  প্রশ্ন। 
বয়স বাড়লে অভিজ্ঞতা বাড়ে। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সহজতর হয়, কম সময় ও শ্রমে বেশি কাজ করার ফলও পাওয়া যায়; কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধৈর্য, কর্ম উদ্যম, শক্তি ও সাহসেও ভাটা পড়ে। শ্রান্তি আসে ক্লান্তি বাড়ে। অবসাদের আত্মীয়রা এসে দেহে ও মনে বাসা বাঁধে, দৃষ্টি, শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়— নানান রোগবালাই শরীরকে কর্ম-অক্ষম করে তোলে। ফলে অভিজ্ঞতার দ্বারা এক দিকে যে বাড়তি লাভ হয়; তেমনি এসব অনিবার্য অতিথির আগমনে ক্ষতি বাড়তে থাকে। অনাহূত অবহেলার আশঙ্কা বেড়ে চলেছে মফিজ মিয়াদের মতো বয়স্ক ব্যক্তিদের মনে। অর্থনীতির সেই অনিবার্য শর্ত- ‘আর সব যদি ঠিক থাকে’ অর্থাৎ পরিবেশ, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অন্যের সাহায্য সহযোগিতা এবং নিজের মনোবল বুদ্ধিবিবেক ও চিন্তাশক্তির ন্যূনতম সজাগ পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে যেকোনো বয়সের মানুষের পক্ষে সমস্যা মোকাবেলা কঠিন হওয়ার কথা নয়। সব তো ঠিক থাকছে না। এখন  ডেঙ্গুকেও ভয় পাচ্ছে মানুষ। 
লেখক : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

Advertisement