
‘বদর প্রতিরক্ষাচুক্তি’ বা ‘বদর সমঝোতাস্মারক’ হলো তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার একটি বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর কাতারের রাজধানী দোহায় চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধের নামানুসারে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তির নামকরণ করেছে ‘বদর’।
চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তিবিনিময়, যৌথ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। অনেকে এই চুক্তিকে ২০২৬ সালের আগস্টে স্বাক্ষরিত তুরস্ক-পাকিস্তান-সৌদি আরবের বা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষাচুক্তি’র সাথে তুলনা করছেন। তবে দু’টির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে : মক্কাচুক্তি অনুযায়ী, সদস্য কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সামরিক সহায়তা দেয়া হবে (যৌথ সামরিক জোট)। বদরচুক্তি কোনো যৌথ সামরিক যুদ্ধজোট নয়। এটি হলো অংশীদার দেশগুলোর সরাসরি বিদেশী অস্ত্র কেনার প্রথাগত মডেল থেকে বের হয়ে এসে নিজেদের মানবসম্পদ ও দেশীয় শিল্প অবকাঠামো স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ।
চার দেশের সামরিক সামর্থ্য
বদর প্রতিরক্ষাচুক্তির স্বাক্ষরকারী চার দেশের (তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া) সামরিক সামর্থ্যরে একটি শক্তিশালী ও পরিপূরক দিক রয়েছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো একটি দেশ অন্য দেশের ঘাটতি পূরণ করবে, যা তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বাবলম্বী করে তুলবে।
২০২৬ সালের বৈশ্বিক সামরিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই চার দেশের শক্তির প্রধান ক্ষেত্র এবং তারা কে কী অবদান রাখছে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
১. তুরস্ক
ড্রোন প্রযুক্তি : তুরস্কের ‘Baykar’ এবং ‘TAI’ বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। Bayraktar TB2 এবং Akinci ড্রোন এই চুক্তির অংশীদারদের প্রধান আকর্ষণ।
প্রতিরক্ষাশিল্প : তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট (KAAN), আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরি করছে। এই চুক্তিতে তারা প্রযুক্তি সরবরাহকারী হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করছে।
২. পাকিস্তান
চার দেশের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ এবং তাদের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী। পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ এবং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ট্যাক্সিলার মাধ্যমে তারা নিজস্ব মিসাইল (যেমন-শাহীন, বাবর) এবং জেএফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট তৈরি করে। এই চুক্তিতে পাকিস্তান বিশাল বাজার এবং অভিজ্ঞ সামরিক জনবল দিয়ে অবদান রাখছে।
৩. ইন্দোনেশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটিতে রয়েছে বিশাল নৌ ও স্থলবাহিনীর সক্ষমতা। দেশটি আঞ্চলিক পরাশক্তি। যৌথ ম্যানুফ্যাকচারিং : ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি PT Pindad এবং PT PAL যথাক্রমে ট্যাংক ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে দক্ষ। তুরস্কের সাথে যৌথভাবে তারা ইতোমধ্যে ‘Kaplan’ বা মাঝারি ট্যাংক তৈরি করেছে। এই জোটের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট ও ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪. কাতার
কাতারের সামরিক বাহিনী আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত আধুনিক। তাদের বিমানবাহিনীতে রয়েছে বিশ্বের সেরা রাফাল, এফ-১৫ কিউএ এবং ইউরোফাইটার টাইফুন জেট। আর্থিক বিনিয়োগকারী : কাতারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘Barzan Holdings’ বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ করে থাকে। এই চুক্তিতে কাতারের মূল ভূমিকা হলো যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন এবং অস্ত্র উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বিশাল ফান্ড বা আর্থিক পুঁজি জোগান দেয়া।
এই চার দেশ একসাথে হওয়ায় এক দিকে যেমন কাতারের অর্থ ও তুরস্কের প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে, অন্য দিকে পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার বিশাল জনবল ও কারখানা ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে তারা পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে রাডার, মিসাইল ও যুদ্ধবিমান তৈরির একটি সমন্বিত সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার সামরিক সামর্থ্য অর্জন করেছে।
বদর প্রতিরক্ষাচুক্তি থেকে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর পেছনে গভীর কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান, ইসরাইল এবং আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রকে না রাখার কারণ
১. আমেরিকার ওপর ‘অতিরিক্ত নির্ভরতা’ কমানো : মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (বিশেষ করে কাতার) দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল; কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান-মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নীতি এই দেশগুলোর মধ্যে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, সঙ্কটের সময় পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তাই এই জোটের মূল লক্ষ্যই হলো যুক্তরাষ্ট্রকে বাইপাস করে নিজেদের স্বনির্ভরতা অর্জন করা। প্রযুক্তি হস্তান্তরে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা : যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত কোনো দেশকে অস্ত্র দিলেও তার মূল প্রযুক্তি বা সোর্স কোড শেয়ার করে না এবং অস্ত্র ব্যবহারের ওপর কড়া শর্ত জুড়ে দেয়; কিন্তু বদরচুক্তির ভিত্তি হলো— একে-অপরের সাথে অবাধে প্রযুক্তিবিনিময় ও যৌথ উৎপাদন করা, যা আমেরিকার উপস্থিতিতে সম্ভব হতো না।
২. সৌদি আরবের অনুপস্থিতির কারণ
মক্কাচুক্তি বনাম বদরচুক্তির কৌশলগত পার্থক্য : অনেকে ভাবছেন সৌদি আরবকে বাদ দেয়া হয়েছে; কিন্তু বিষয়টি আসলে দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার মতো। এর ঠিক দুই মাস আগে, ২৬ সালের আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষাচুক্তি সই করে। মক্কাচুক্তিটি একটি যৌথ সামরিক জোট; কিন্তু বদরচুক্তি কোনো যুদ্ধের জোট নয়, এটি শুধুই বাণিজ্যিক ও শিল্পভিত্তিক অস্ত্র তৈরির জোট।
কাতার ও সৌদি আরবের নিজস্ব হিসাব : কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। কাতার এই চুক্তির প্রধান অর্থায়নকারী ও আয়োজক। কাতার নিজের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষাশিল্প শক্তিশালী করতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াকে বেছে নিয়েছে।
আঞ্চলিক সঙ্ঘাত থেকে দূরে থাকা : সৌদি আরব বর্তমানে ইয়েমেনের হুথি এবং ইরানের সাথে নানামুখী সঙ্ঘাতে লিপ্ত। কাতার বা ইন্দোনেশিয়া এই মুহূর্তে সৌদি আরবের নিজস্ব কোনো আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চায় না। তাই তারা সামরিক বাধ্যবাধকতাহীন একটি স্বাধীন বলয় তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ কি অংশ নিতে পারে
বাংলাদেশ তাত্ত্বিকভাবে এই চার দেশের বলয়ে বা বদর প্রতিরক্ষাচুক্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের এ ধরনের জোটে আগ্রহ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই বলয়ে যোগ দিতে চায়, তবে তার পেছনে কিছু বড় ইতিবাচক দিক এবং একই সাথে কিছু ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
১. যোগদানের সম্ভাবনা ও অনুকূল দিক : মক্কাচুক্তিতে আগ্রহের গুঞ্জন : ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষাচুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা তৈরি হয়েছিল। যেহেতু বদরচুক্তিও মূলত একই বলয়ের দেশগুলোর (তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া) একটি উদ্যোগ, তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এখানে যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন : বাংলাদেশ তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তুরস্কের আধুনিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার নৌ-প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হতে পারলে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদন : বদরচুক্তি কোনো যুদ্ধজোট নয়, এটি মূলত প্রযুক্তি শেয়ারিং ও যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে সরাসরি অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্রতিরক্ষাশিল্প গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
২. প্রধান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ : বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান বা তুরস্কের নেতৃত্বাধীন কোনো প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেয়, তবে তা প্রতিবেশী ভারতের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, তাই যেকোনো সামরিক বলয়ে যোগ দেয়ার আগে ঢাকার জন্য দিল্লির সাথে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা একটি বড় পরীক্ষা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি— বাংলাদেশের চিরন্তন পররাষ্ট্রনীতি হলো, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।’ কোনো নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বা সামরিক ব্লকে সরাসরি যুক্ত হওয়া এই নিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশের চাপ : বাংলাদেশ এই বলয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়লে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশ এই চার দেশের বলয়ে অংশগ্রহণ করার পূর্ণ যোগ্যতা ও যৌক্তিক কারণ রাখে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া এই জোটে থাকায় এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ। তবে বাংলাদেশ সরাসরি কোনো চুক্তিতে সই করার চেয়ে এই দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে, যাতে কোনো ভূরাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে না হয়।
একটি পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা
সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডিং লং বলেন, মক্কা ও বদরচুক্তির উদ্ভব মার্কিন আধিপত্যের পতন নির্দেশ করে। কারণ অপ্রতিসম যুদ্ধ ওয়াশিংটনের চিরাচরিত সামরিক সুবিধাগুলোকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং মিত্রদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার সদিচ্ছা ও সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ডিং বলেছেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো ‘আর তাদের নিরাপত্তার সব বাজি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাখছে না’ বরং তারা তাদের অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনতে এবং ঝুঁকি ভাগ করে নিতে চাইছে। কিন্তু মক্কাচুক্তিতে ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষাশিল্প সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি অতিরিক্ত দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত, ফলে একটি পৃথক ব্যবস্থার প্রয়োজন কেন ছিল, সেই প্রশ্নটি উঠেছে। ডিং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যকার প্রতিযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করে যুক্তি দেন, উভয় দেশই নিজেদেরকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্রতর বহুপক্ষীয় নিরাপত্তাকাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ডিং বলেছেন, সীমিত অভ্যন্তরীণ সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন কাতার তুরস্কের সাথে তার দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব প্রসারিত করতে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য একটি অতিরিক্ত ‘সুরক্ষা’ স্তর তৈরি করতে আশা করছে। অন্য দিকে ইন্দোনেশিয়া ঐতিহ্যগতভাবে একটি স্বাধীন, জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে এবং যৌথ প্রতিরক্ষার দায়বদ্ধতার ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক, যা একটি শিল্প অংশীদারত্বকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে।
এই চারটি দেশের স্বার্থও একে-অপরের পরিপূরক। তুরস্ক ও পাকিস্তান এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তহবিল, বাজার এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রভাব অর্জনের আশা করছে, অন্য দিকে কাতার অর্থায়ন করতে এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি ও পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতার নাগাল পেতে পারে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








