মতামত
মতামত। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

এক
গোলটেবিল বৈঠক, ‘জাতীয় ঐক্য : পথের সন্ধানে’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে, যার যৌথ আয়োজনে ছিল ‘ভিশন সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি স্টাডিজ’-ভিসিপিএসএস। দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরের নির্মম অন্ধকূপে বন্দী থাকা সাবেক সেনাকর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব:) আব্দুল্লাহিল আমান আজমী  এই সংলাপ সঞ্চালনা করেন।
সেমিনারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে বলেন, প্রধান অংশীজন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে সরকারের ‘একলা চলো নীতি’ কখনোই টেকসই সংস্কার আনতে পারবে না। একই শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কার্যকর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে চরম ভাঙনের মুখে পড়বে। চারপাশের বহিঃশত্রুর বিভাজনের চক্রান্তের মুখে মিলনায়তনের চার দেয়ালে উচ্চারিত সেই রূঢ় ভূরাজনৈতিক সত্য গণমাধ্যমে পুরোপুরি আসেনি বলেই বৃহত্তর জনস্বার্থে আমার এই পর্যালোচনা তুলে ধরা। 
দুই
সেমিনারে সবাই যখন ঐক্যের পথ খুঁজছিলেন, তখন আমি সবার কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম : আসলে একটি দেশের আসল সংজ্ঞা কী? আমরা অনেকেই দেশকে ভালোবাসি; কিন্তু বইয়ের পাতার বাইরে একটি জীবন্ত দেশের পরিচয় কী, তা আজও কি আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি? এই প্রশ্নের শিকড় প্রোথিত আমার সামরিক জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতায়।
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদানের পর চৌদ্দ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার নেভাল একাডেমিতে। সেখানে তৃতীয় বর্ষে ‘মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড কজেস অব ওয়ার’ ক্লাসে এয়ারফোর্স গ্রুপ ক্যাপ্টেন আমাদের প্রশ্ন করলেন, ‘একটি দেশের সংজ্ঞা কী?’ তরুণ বয়সে আমরা তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী সঠিকভাবে কোনো উত্তর দিতে পারিনি। শিক্ষক মৃদু হেসে বুঝিয়ে দিলেন, ‘একটি দেশের মূলত উপাদান তিনটি : ভূখণ্ড, পতাকা আর মানুষ। পতাকা ওপরে তোলার দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর, আর জনগণ ট্যাক্স দিয়ে তাদের লালন করে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।’ কিন্তু বড় চমকটি অপেক্ষা করছিল পরবর্তী বছরগুলোতে। চতুর্থ বর্ষে এসে তিনি সেই সংজ্ঞায় যোগ করলেন ‘সামরিক বাহিনীর মেরুদণ্ড’, যা এক্স-রে করে দেখতে হবে সোজা কি না। পঞ্চম বর্ষে এসে তিনি আবারো সেই একই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। আমরা আগের সবগুলো উপাদান একসাথে সাজিয়ে উত্তর দেয়ার পর তিনি এক গভীর সত্য উচ্চারণ করলেন, “তোমাদের সব উত্তরই সঠিক, তবে একটি দেশকে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর রাষ্ট্র হতে হলে তার একজন চিহ্নিত ‘শত্রু’ বা প্রতিপক্ষের প্রয়োজন। শত্রু ছাড়া কোনো দেশ পূর্ণাঙ্গ নয়; শত্রু ছাড়া একটি দেশ হয় সুইজারল্যান্ডের মতো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে, নয়তো কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির পদানত বা অনুগত তাঁবেদার রাষ্ট্রে (াধংংধষ ংঃধঃব) পরিণত হতে পারে, পছন্দটি একান্তই সেই দেশের নিজস্ব। তবে শত্রুর সার্বক্ষণিক উপস্থিতিই একটি দেশের সামরিক বাহিনীর মেরুদণ্ডকে সজাগ, পেশাদার ও কর্মক্ষম রাখে; আর শত্রুর অনুপস্থিতি বাহিনীকে অলস ও অসাড় করে ফেলে।” 
তিন
আমার দ্বিতীয় বর্ষের পর, ১৯৮০ সালে যুগোস্লাভিয়ার অবিসংবাদিত নেতা মার্শাল টিটো মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৮৪ সালে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে আমি দেশে ফিরে আসি। কিন্তু পরবর্তী এক দশকে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে কী ঘটল? যে যুগোস্লাভিয়ার ক্লাসরুমে বসে আমরা সার্বভৌমত্বের পাঠ নিয়েছিলাম, সেই শক্তিশালী রাষ্ট্রটিই নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়ে মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে গেল! 
কেন ধ্বংস হয়েছিল আধুনিক যুগোস্লাভিয়া? রাজনীতিবিদদের উগ্র জাতীয়তাবাদী অন্ধত্ব তো ছিলই; কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক স্খলনটি ঘটেছিল খোদ তাদের সামরিক বাহিনী, যুগোস্লাভ পিপলস আর্মির (জেএনএ) ক্ষেত্রে। বহিরাগত শক্তির হাত থেকে অখণ্ড দেশকে রক্ষা করার শপথ নেয়া বাহিনীর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মকর্তা ছিলেন সার্ব ও মন্টিনিগ্রিন বংশোদ্ভূত। ফলে চরম রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রের সংবিধান ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। তারা স্লোবোদান মিলোশেভিচের সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও আধিপত্যের অন্ধ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। একটি সামরিক বাহিনী যখন সাংবিধানিক পেশাদারিত্ব হারিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত হয় এবং নিজ নাগরিকদের দিকে বন্দুকের নল তাক করে, তখন কোনো পরাশক্তিও সেই রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারে না। যুগোস্লাভিয়ার পতন আমাদের শিখিয়ে গেছে, সামরিক বাহিনীর মেরুদণ্ড যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তবে সেই বাহিনী দেশ রক্ষার বদলে দেশ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 
চার
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, এই মোলায়েম নীতির মায়াজালে ঘুমিয়ে ছিল। অথচ এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গভীর বিভ্রান্তিতে ভরা। ১৮৬৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন তার দ্বিতীয় অভিষেক বক্তৃতায় এই সুর উচ্চারণ করেছিলেন সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্যে, চার বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত আমেরিকান ইউনিয়নের পুনর্মিলন ঘটাতে; কোনো আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে নয়। 
লিংকন নিজেই তার ১৮৬৩ সালের গেটিসবার্গ ভাষণে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও ইউনিয়ন রক্ষার লড়াইকে সুস্পষ্ট করেছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে সামরিক শক্তিতে চূর্ণ করার পরই কেবল তিনি অভ্যন্তরীণ ক্ষতের উপশমে প্রতিহিংসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। বিশ্বমঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই দুর্বল নীতি দিয়ে কূটনীতি পরিচালনা করেনি। লিংকন যখন ওয়াশিংটনে ক্ষমার বাণী শোনাচ্ছেন, তখন তারই আমলে মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারে (প্রতি একর মাত্র দুই সেন্টের অবিশ্বাস্য মূল্যে) রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল খনিজ ও ভূরাজনৈতিক সম্ভাবনাময় ‘আলাস্কা’ কিনে আমেরিকা শক্তির বিস্তার ঘটাচ্ছিল। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সেওয়ার্ড মেক্সিকো সীমান্তে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করে ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন! আমেরিকার সেই বাস্তববাদী শক্তির কূটনীতি (জবধষঢ়ড়ষরঃরশ) একপাশে সরিয়ে রেখে, লিংকনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমার সুরটিকে ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি বানিয়ে দেয়া হলো। 
এর ফলে আমরা একটি কাল্পনিক ‘শত্রুহীন’ মোহে বাস করে প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তুলিনি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফাঁকা ভালোমানুষি দিয়ে নয়, শক্তির ভারসাম্য দিয়ে টিকে থাকতে হয়। রাষ্ট্র যখন শত্রু চিনতে ভুল করে, তখন সামরিক বাহিনীর মেরুদণ্ডও অবশ হয়ে পড়ে। আমাদের সামরিক বাহিনী যেন এক দীর্ঘ ‘বাধ্যতামূলক ছুটিতে’ চলে গিয়েছিল, যার নির্মম পরিণতি আমরা দেখেছি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির বিডিআর হত্যাকাণ্ডে। শত্রু না চেনার অন্ধত্ব এবং কতিপয় উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তার রাজনৈতিক পদলেহন বাহিনীকে চরম আত্মমর্যাদাহীন সঙ্কটে ফেলেছিল। ক্ষমতার মসনদ বাঁচাতে সহকর্মী কর্মকর্তারা মেতে উঠেছিলেন নিজেদেরই সামরিক ভাইদের গুম ও নির্যাতনে, যার নির্মম শিকার ব্রিগেডিয়ার আজমীর মতো দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে। দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী রেখে তার জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর তাকে লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করা হলেও, তার জীবনের হারিয়ে যাওয়া আটটি অমূল্য বছর বা রাষ্ট্রের অপূরণীয় মেধার ক্ষতি কি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব? ক্ষমতার দালালি ও আত্মঘাতী রাজনীতির চূড়ান্ত লজ্জাজনক পরিণতি আজ স্পষ্ট : আটজন জেনারেল পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশে আর তিনজন সাবেক সেনাপ্রধান আজ আত্মগোপনে। ২০২৪ সালের বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশে সশস্ত্রবাহিনীতে আর কোনো মীর জাফর বা চাটুকারের ঠাঁই হতে পারে না। 
২০২৪ সালে তরুণ অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের দেশপ্রেমের জোরে আমাদের সেনাবাহিনী সেই দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে জনতার আকাঙ্ক্ষার পাশে এসে দাঁড়ায়; প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, জনগণের আস্থাই একটি পেশাদার বাহিনীর আসল শক্তি। 
স্থলভাগের এই সঙ্কটের পাশাপাশি সমুদ্রসীমার দিকে তাকালেও একই ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগর আজ বিশ্বরাজনীতির এক তপ্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো পরাশক্তিগুলোর অদৃশ্য ত্রিমুখী দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানায়। পরাশক্তিদের এই জটিল দাবার বোর্ডে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া রুখতে হলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ট্র্যাডিশনাল প্রতিরক্ষার খোলস ভেঙে বের হয়ে আসতে হবে। সাবমেরিন ফ্লিট এবং আধুনিক ত্রিমাত্রিক যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এক ইস্পাতকঠিন কৌশলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। 
পাঁচ
১৭৯৫ সালে অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণেই পোল্যান্ড ইউরোপের মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে মীর জাফর একা ছিলেন না; নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছিল জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ আর ঘসেটি বেগমরা। 
আজ আমাদের পরিষ্কার বুঝতে হবে, বাহ্যিক শত্রু আমাদের ঘরের ভেতরের রাজনৈতিক বিভেদকে উসকে দিয়ে আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রটিকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে চায়। তাই লিংকনের সেই অকার্যকর অভ্যন্তরীণ ক্ষমার তত্ত্ব ভুলে আমাদের শক্তিভিত্তিক এক বাস্তববাদী রাষ্ট্রদর্শনে ফিরে আসতে হবে। 
কিন্তু এখানে এক পরম সান্ত্বনা ও আশার আলো রয়েছে : আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের আজ একটি স্পষ্ট শত্রু রয়েছে। এই শত্রু ক্রমাগত আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি এবং বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিটি পদক্ষেপে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে সজাগ হতে হয়, কিভাবে সময়মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয় এবং কিভাবে সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ থাকতে হয়। 
জাতীয় ঐক্য কোনো দুর্বল আপস নয়; এটি হলো অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে এক ইস্পাতকঠিন সঙ্কল্প। যখন পুরো জাতি উপলব্ধি করবে, আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সামনে এক রক্তচক্ষু সুনির্দিষ্ট শত্রু দাঁড়িয়ে আছে, তখনই সব ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। শত্রু থাকা অভিশাপ নয়; বরং শত্রুর জীবন্ত উপস্থিতিই আত্মরক্ষার তাগিদে এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ, পেশাদার ও অপরাজেয় করে তোলার সর্বশ্রেষ্ঠ চালিকাশক্তি। 
লেখক : সাবেক সহকারী নৌবাহিনী প্রধান ও উপ-উপাচার্য  বিইউপি

Advertisement