কারওয়ান বাজারে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম
কারওয়ান বাজারে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম। নয়া দিগন্ত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ অসহায়বোধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এতটা ঊর্ধ্বে উঠেছে যে মধ্যবিত্তেরও ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। এলপিজির দাম নির্বাচনের পর ১২০০ টাকা ছিল, সেটা এখন সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৮০০ টাকা। আর বেসরকারিভাবে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় এ মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের’ প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ উপলক্ষে এ পথসভার আয়োজন করে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ। কর্মসূচিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি জনগণ খুবই অসহায়বোধ করছে। আমরা বলতে চাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি আপনাদের সাথে আছে। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, সার্বিকভাবে এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

পথসভায় তিনি বলেন, একদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, মাদক কারবারি- এদের ঠেকানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর, বিরোধীদলের ওপর দমনপীড়ন চলছে। সাংবাদিকদের ওপর সবচেয়ে বেশি দমনপীড়নে চলছে। নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে এক সাংবাদিককে গুলি করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় ৬০টি যানবাহনের ডাকাতি হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে জনগণের সাথে প্রহসন করার জন্য। সেই কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায় ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে স্বচ্ছ জবাবদিহির গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চেয়েছিলাম সেই প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। সাইবার আইনে যে আনা হচ্ছে সংশোধনী এটা আনা যাবে না। এটা কোনোভাবেই সংসদে পাস হতে দেয়া হবে না।