
শহীদ আবরার ফাহাদের নামে গড়াই নদে সড়ক সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় তিনি বলেন, ‘দলীয় মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগ্রহ ও আবরার ফাহাদের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট এলাকায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়াঘাট এলাকায় গড়াই নদে একটি সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি জানান, সেই সাথে সেতুর নাম শহীদ আবরার ফাহাদের নামানুসারে করার দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার সাথে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক ও কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমীন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই করবে। সেখানে সেতু নির্মাণের উপযুক্ত পরিবেশ ও কারিগরি সম্ভাবনা পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রতিফলন এবং কুষ্টিয়াবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপির বিরোধিতা করেছেন, এমন মানুষও এ এলাকায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে সেতু নির্মিত হলে বিরোধী মতের মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এর সুফল ভোগ করবেন।’
তাই উন্নয়নকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সেতুর স্থান পরিদর্শনের আগে প্রতিমন্ত্রী রায়ডাঙ্গায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় আবরার ফাহাদের স্মৃতিস্তম্ভ, মসজিদ, ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়নের বিষয়েও উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রীর সেই কর্মসূচির মাঝেই বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই পক্ষের হাতাহাতি হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে এক যুবদল নেতার হস্তক্ষেপে ফোন দুটি ফেরত দেয়া হয় বলে জানা যায়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








