সরকারি পেনশন, সরকার
১ জুলাই থেকে সরকারি পেনশন কার্যকর সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন বিভিন্ন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নির্ধারিত হবে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

পাশাপাশি অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়ার বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ১৭ সেপ্টেম্বর এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে চলতি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল বর্তমানে প্রচলিত ৫ থেকে ২৫ বছর এবং গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১ থেকে ৯০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

৫ বছর চাকরির ক্ষেত্রে গ্রস পেনশন হবে সর্বশেষ মূল বেতনের ২১ শতাংশ। চাকরিকাল বাড়ার সাথে এ হারো বাড়বে এবং ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের ক্ষেত্রে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার হবে ৯০ শতাংশ।

নতুন প্রজ্ঞাপনে চলতি বছরের ৩০ জুন তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

এতে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন হবে ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা।

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৭৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিট পেনশন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা।

৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন বৃদ্ধির হার হবে ৬০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৪০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া পেনশনভোগীদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন হবে ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।

তবে যেসব বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, তারা পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আনুতোষিকের বিদ্যমান হারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম পেনশনযোগ্য চাকরিকালের জন্য প্রতি টাকায় আনুতোষিকের হার ২৬৫ টাকা, ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কমের জন্য ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের জন্য ২৩০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা মারা গেলে তার জন্যও এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে।

চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এমন ঘটনা ঘটলে চাকরির প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য শেষ আহরিত তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে ওই কর্মচারী বা তার পরিবার এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন।

মৃত সরকারি কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পারিবারিক পেনশনের বিধানও বহাল রয়েছে। পুনর্বিবাহ না করার শর্তে তারা আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন।

এ ক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশন ভোগকালীন পুনর্বিবাহ করেননি, এ মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

তবে ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দাখিলের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরকালীন ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে ১৮ মাসের মূলবেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরকালীন মূলবেতনের ভিত্তিতে ছুটি নগদায়নের অর্থ অবসর-উত্তর ছুটি শুরুর সময় প্রাপ্য হবে। কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা পাবেন।

এতে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক ও প্রজ্ঞাপনগুলো নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত বা সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী পেনশনভোগীদের নিট পেনশনের প্রাপ্যতা কার্যকর হবে।

সরকারের এ আদেশ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে ওই তারিখ থেকে পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারিত সুবিধা পাবেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো: ফেরদৌস আলম প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন।

সূত্র : বাসস