
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময়ে দেশের আবাদি জমি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫২ বছরে আবাদি জমি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ন, বসতবাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিনিয়ত কৃষিজমি হারানোর এই চাপের মধ্যেও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ গুণ, গমের ১৭ দশমিক ২৭ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ২২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ। ফলে কম জমিতে ক্রমবর্ধমান মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করাই এখন কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক অ্যাগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালার শেষ দিনে বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি প্রযুক্তি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো: আবদুছ ছালাম।
বিএআরসির পরিচালক ড. মো: মাহফুজ আলম ও প্রধান ট্রেনিং অফিসার আল মোবাচ্ছের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেনÑ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, বিএআরসির সদস্য পরিচালক ড. মো: মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা ও ডক্টর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক (ইনল্যান্ড) মো: মোতালেব হোসেন।
অন্যানের মধ্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ বিএআরএফ সদস্য ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বিএআরএফ সভাপতি মো: নিজামুল হক, সহসভাপতি চপল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম। তিন দিনের কর্মশালায় ১৫ জন প্রশিক ১৫টি বিষয়ে আলোচনা করেন। ড. মো: আবদুছ ছালাম বলেন, দেশে প্রতি বছর জনসংখ্যা বাড়ছে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ। একই সময়ে কৃষিজমির পরিমাণও কমছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে জমি কমছে বছরে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে। প্রতিদিন প্রায় ৩০৭ একর জমি বিভিন্নভাবে কৃষি থেকে অন্য কাজে চলে যাচ্ছে।
বিএআরসি চেয়ারম্যান বলেন, জমি কমে যাওয়া খাদ্য উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানেও গত কয়েক দশকে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২২-২৩ সালে দেশে মোট চাল উৎপাদন ছিল ৩৯১ দশমিক ০২ লাখ মেট্রিক টন, গম ১২ দশমিক ০৬ লাখ মেট্রিক টন এবং ভুট্টা ৬৪ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭০-৭১ সালে দেশে ধানের উৎপাদন ছিল প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টন; ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় চার কোটি ছয় লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
কর্মশালায় কৃষি অর্থনীতি ও তথ্যের উৎস নিয়ে আলোচনা করেন বিএআরসির সদস্য পরিচালক ড. মো: মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা। তিনি জানান, শস্যবীমা নিয়ে একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করে জুলাই মাসে জমা দেয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে তিনি জানান। কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ সমন্বয় কমিটির (এটিসিসি) কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল। তিনি বলেন, দেশের দণিাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








