জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা যেত : এবি পার্টি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উৎপাদন বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি মূল্যনীতি পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মনে করেন, জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের ‘দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা রয়েছে।
“তবে সেই চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত। কিন্তু জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে সাত মাসে দুই বার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।”
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার পর এপ্রিলে এক দফা জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকখানি বাড়ায় সরকার। রোববার রাতে আবার জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। লঞ্চ, ট্রেনের ভাড়াও বাড়ছে।
ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব তুলে ধরে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু সেই চাপ একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে, এমন কোনো নীতি নেই। আমাদের ‘প্রাইস শক’ নয়, প্রয়োজন মূল্য সমন্বয় করা।
ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে তুলে ধরে তিনি বলেন, “অগাস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের প্রকৃত ক্রয়মতার ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।”
‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবি পার্টির ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
তিনি বলেন, সরকার বলছে যে মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
তার মতে, এ চাপ বাস্তব হলেও আন্তর্জাতিক বাজারদর, বীমা, বিনিময় হার, করসহ বিপিসির প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দেিণর আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান।