গাজীপুরে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশন সফটওয়্যারের উদ্বোধন

বাসস
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশন সফটওয়্যারের ‘সফট লঞ্চ’ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জিসিসির নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি এই অটোমেশন সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নতুন এই ডিজিটাল সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
এই সেবা চালুর ফলে নগরবাসী ঘরে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য জমা, ফি প্রদানসহ আনুষঙ্গিক পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার জানান, জনগণের দোরগোড়ায় ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স সুবিধা নির্বিঘেœ পৌঁছে দিতে এই ডিজিটাল পদপে নেয়া হয়েছে। এটি জিসিসির সেবাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেবাও অনলাইন প্রসেসের আওতায় আনা হবে, যা নাগরিকদের সময় ও অর্থ বাঁচানোর পাশাপাশি ভোগান্তি কমাবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম বলেন, সঠিক হোল্ডিং ম্যাপিং এবং তথ্যভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করছে। বিদ্যমান কারিগরি ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সমাধান করে ভবিষ্যতে অন্যান্য সেবাসহ প্রয়োজনে মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সংস্থাটির হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ, পানির বিল, ইজারার অর্থ ও মার্কেট ভাড়াসহ সব লেনদেন ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই ল্েয তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়। এর অধীনে এটুআইয়ের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’কে সিটি করপোরেশনের সফটওয়্যারের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে নাগরিকরা মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন বা এজেন্ট ব্যাংকিং এবং কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে নিরাপদে ফি পরিশোধের সুবিধা পাবেন। ইতঃমধ্যে পানির বিল ‘একপে’র মাধ্যমে সংগ্রহের কার্যক্রম পরীামূলকভাবে চালু রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ নিয়মিত অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে জমা হচ্ছে।
নতুন এই অটোমেশন সিস্টেমে রয়েছে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, ডাটা বিশ্লেষণ, অনলাইন পেমেন্ট ও ডিজিটাল রসিদের ব্যবস্থা, নোটিফিকেশন প্রদান এবং সেবার অগ্রগতি পর্যবেণ সুবিধা। এর ফলে সরাসরি অফিসে আসার প্রয়োজনীয়তা কমবে এবং দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সফটওয়্যারের কারিগরি রূপরেখা উপস্থাপন করেন স্পেকট্রাম আইটি সলিউশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এটুআই প্রকল্পের চিফ অ্যাডভাইজার মাসুদুর রহমান, জিসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার এবং কর নির্ধারণ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম পাঠান। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুল বারেকসহ কারিগরি দল ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।