চৌহালীতে চাল বিতরণের আগেই গায়েব

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নে বন্যা, নদীভাঙন ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে সাত টন জিআর চালের হদিস মিলছে না। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলছেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব অপূর্ব সরকার জানান, গত বুধবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৬০০ জনকে মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের না জানিয়ে চাল উত্তোলন করেন। পরে বিতরণের জন্য বিনানই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কে ৫২০ বস্তা চাল রাখা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮০ বস্তা চাল কম পান। ৮০ বস্তায় ধারনকৃত দুই হাজার ৪০০ কেজি চালের হদিস না পাওয়ায় বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। একই দিন খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের বরাদ্দ পাঁচ টন জিআর চালেরও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ােভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউএনও মেহেদী হাসান শাকিল জানান, দুই ইউনিয়নের জিআর চাল বিতরণে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত অসহায়দের মধ্যে নিয়ম মেনে চাল বিতরণ না করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়রা দ্রুত চাল বিতরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তার চাল উত্তোলনের পর নির্ধারিত স্থানে ও তালিকাভুক্তদের মধ্যে বিতরণ না করে গোপনে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চালের হিসাব নিশ্চিত এবং আত্মসাৎ হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।