সাংবাদিকদের স্বার্থ আদায়ে নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব
ডিআরইউতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এ এ এম সালেহ শিবলী : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। একই সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রেসসচিব বলেন, একটি সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মালিকের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে। তবে স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকার কিংবা জনগণের নয়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আদালতের।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যমে অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধে প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার রুখতে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রেসসচিব। একই সাথে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভুল তথ্য থেকে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান  জানান তিনি। আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেসসচিব বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বর্তমান সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও নৈতিক নিরাপত্তা নেই। অনেক সাংবাদিককে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হয়। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের একটি আইনি ভিত্তি ও কাঠামোর মধ্যে আনা গেলে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা বাড়বে। একই সাথে দেশবাসী আরো বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য ডেডিকেটেড স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ সুবিধা নেই। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করলেও সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই।  তিনি এই বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করার আহ্বান জানান।  সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দফতর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।