
নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট মেনে নেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য সুস্থ ও স্বাভাবিক শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তাদের ঋণের বোঝায় জর্জরিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গতকাল জাতীয় প্রেস কাবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : বাংলাদেশের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শুধু মালয়েশিয়া নয়, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশী কর্মীদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কোনো দেশের নাগরিককে এভাবে ফেরত পাঠানো শুধু ব্যক্তির বিষয় নয়, দেশের মর্যাদার সাথেও জড়িত। সরকারের দায়িত্ব হলো সমস্যার কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধান করা; কতজন ফেরত এলেন, শুধু সেই সংখ্যা গণনা করা নয়। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে তিনবার বাজারটি বন্ধ হয়েছে। আবার চালুর পর চতুর্থবার যেন বন্ধ না হয়, সে দিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে এবং শুধু এর বাইরের চেহারা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হলে তা মেনে নেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ৬০০টি এজেন্সি নির্বাচন করে তাদের ‘মাস্টার এজেন্সি’ হিসেবে ব্যবহারের যে আলোচনা হচ্ছে, সেটি স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। কোন মানদণ্ডে এবং কী প্রক্রিয়ায় এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে, সরকারকে তা স্পষ্ট করতে হবে। অভিজ্ঞতা নেই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে নিবন্ধন নেইÑ এমন প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বন্ধে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সাথে মালয়েশিয়ার আলোচনার পদ্ধতি অনুসরণের কথাও বলেন তিনি।
প্রবাসীদের অধিকার প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, শুধু ‘রেমিট্যান্সযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করলেই তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা হয় না। তাদের ভোটাধিকারসহ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীরা দেশে থাকুন বা বিদেশে, তারা ভোটার হলে তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার খর্বের কোনো উদ্যোগ নেয়া হলে তা অন্যায় ও জুলুম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার আগে দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে। গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো আইন করা হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, তারা সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা চান না। একই সাথে অন্যায় ও জনগণের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত কথা বলতেও পিছপা হবেন না। সরকার ভুল সংশোধন করে সঠিক পথে এগোলে তারা তাকে সাধুবাদ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখ্য সমন্বয়ক ও সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতাহারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও মোবারক হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এস এম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাবেক কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রচিন্তক সাকিব আলী এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দেিণর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী দেিণর সেক্রটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ।







