
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশে কার্ডভিত্তিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও দেশের বাইরে কার্ডে ব্যয়ের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর কার্ড ব্যবহারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ওই এক মাসে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে মোট প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে বাংলাদেশে লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুলাইয়ে বিদেশে বাংলাদেশী কার্ডধারীদের ব্যয় ছিল দেশে বিদেশী কার্ডধারীদের ব্যয়ের প্রায় ৪.২ গুণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের Statistics Department-এর Big Data Analytics and Data Science Unit-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা সম্মিলিতভাবে ৯৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। এতে দেশে নগদ অর্থের পাশাপাশি কার্ডভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার স্পষ্ট হলেও বিদেশমুখী ব্যয়ের েেত্র আমদানি, শিা, চিকিৎসা, ভ্রমণ ও বিভিন্ন সেবার পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
পাঁচ বছরে কার্ড দ্বিগুণের কাছাকাছি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২১-এ দেশে ডেবিট কার্ড ছিল দুই কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৮টি। জুলাই ২০২৬-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ছয় লাখ ৩০ হাজার ৪৭৫টিতে।
ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা একই সময়ে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭ লাখ দুই হাজার ৬৯৩টি। সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে প্রিপেইড কার্ড। ২০২১ সালের আগস্টে যেখানে প্রিপেইড কার্ড ছিল মাত্র ৯ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি, জুলাই ২০২৬-এ তা বেড়ে হয়েছে ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৩২৯টি।
অর্থাৎ শুধু কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, কার্ডের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিসেম্বর ২০২২ থেকে জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে ডেবিট কার্ড বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ড ২৮ শতাংশ। বিপরীতে প্রিপেইড কার্ড বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।
কার্ডের সংখ্যা বাড়ার সাথে লেনদেনও বেড়েছে। আগস্ট ২০২১-এ তিন ধরনের কার্ডের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৮৭ মিলিয়ন টাকা। জুলাই ২০২৬-এ তা বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৭৪ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন টাকা। পাঁচ বছরে বৃদ্ধির হার ১০৮ শতাংশ।
দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে ৪৩২৪ কোটি টাকা
জুলাই ২০২৬-এ দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ হাজার ২৪৮ মিলিয়ন টাকা বা চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। জুনে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬১০ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ এক মাসে কমেছে ৩.০৫ শতাংশ।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। মোট লেনদেনের ৫০.৩১ শতাংশ হয়েছে এই খাতে। এরপর রিটেইল আউটলেট সার্ভিসে ১১.২৮ শতাংশ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৮.৭২ শতাংশ, নগদ উত্তোলনে ৭.৭৩ শতাংশ, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ৬.১৭ শতাংশ এবং পোশাকের দোকানে ৪.১১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
অর্থাৎ দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার মূলত ভোগ ও দৈনন্দিন কেনাকাটাকেন্দ্রিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতির কারণে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, ব্যাংকের বিভিন্ন অফার এবং ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কার্ড গ্রহণের সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশীয় ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের মধ্যে ৯০.৬৯ শতাংশ ছিল পণ্য বা সেবা ক্রয়, ৭.৭৩ শতাংশ নগদ উত্তোলন এবং ১.৫৮ শতাংশ ফান্ড ট্রান্সফার।
বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ৫২৬ কোটি টাকা
জুলাইয়ে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিদেশে লেনদেন হয়েছে পাঁচ হাজার ২৫৯ মিলিয়ন টাকা বা ৫২৬ কোটি টাকা। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি।
বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেÑ ৩১.৩৩ শতাংশ। রিটেইল আউটলেট সার্ভিসে ১৭.১৮ শতাংশ, পরিবহনে ১২.৫০ শতাংশ, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১১.৪৪ শতাংশ, পোশাকে ৭.৯৬ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক সেবায় ৭.২৯ শতাংশ।
দেশভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে। বিদেশে ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ১৭.৭১ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর থাইল্যান্ড ১১.৬৮, যুক্তরাজ্য ১০.৩৫, সিঙ্গাপুর ৭.৫৪, ভারত ৬.৬৯ ও মালয়েশিয়া ৬.৫৫ শতাংশ।
এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, বিদেশে বাংলাদেশী কার্ডের ব্যবহার শুধু পর্যটন ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; খুচরা কেনাকাটা, পরিবহন, ওষুধ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সেবাতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
ডেবিট কার্ডেও বিদেশমুখী ব্যয় ৪০১ কোটি
জুলাইয়ে বাংলাদেশী ডেবিট কার্ড দিয়ে বিদেশে লেনদেন হয়েছে চার হাজার ১১ মিলিয়ন টাকা বা ৪০১ কোটি টাকা। মোট লেনদেনের সংখ্যা সাত লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি।
ডেবিট কার্ডের বিদেশী ব্যবহারে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের অংশ ২০.৮৯ শতাংশ। সরকারি সেবা ১৮.৩০ শতাংশ, ব্যবসায়িক সেবা ১৩.৬৯ শতাংশ, নগদ উত্তোলন ১২.৪৫ শতাংশ, রিটেইল আউটলেট ৯.৭৯ শতাংশ এবং ওষুধ ও ফার্মেসি ৯.৭৮ শতাংশ।
দেশভিত্তিক হিসাবে ডেবিট কার্ডেও যুক্তরাষ্ট্র প্রথমÑ ১৩.২৫ শতাংশ। এরপর যুক্তরাজ্য ১২.৮৭, ভারত ৯.৩৫, চীন ৮.৯৬, আয়ারল্যান্ড ৮.৭৫ ও সৌদি আরব ৬.৫২ শতাংশ।
প্রিপেইড কার্ডেও বিদেশে ৫৮ কোটি টাকা
বিদেশে বাংলাদেশী প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার তুলনামূলক কম হলেও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। জুলাইয়ে এ ধরনের কার্ডে বিদেশে লেনদেন হয়েছে ৫৭৮ মিলিয়ন টাকা বা প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। মোট লেনদেন ছিল এক লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি।
এখানে সরকারি সেবা সবচেয়ে বড় খাতÑ ২৪.০৯ শতাংশ। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ১৫.৩১ শতাংশ, নগদ উত্তোলন ১৪.৮৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক সেবা ১৪.২২ শতাংশ।
দেশভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬.৩৭ শতাংশ, ভারতে ১৪.৮৮, সৌদি আরবে ১০.৮৮ এবং যুক্তরাজ্যে ১০ শতাংশ প্রিপেইড কার্ড লেনদেন হয়েছে।
তিন ধরনের কার্ডে বিদেশে মোট ৯৮৫ কোটি টাকা
ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইডÑ তিন ধরনের কার্ড মিলিয়ে জুলাইয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছে প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকা।
এর মধ্যেÑ
* ক্রেডিট কার্ড: প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা
* ডেবিট কার্ড: প্রায় ৪০১ কোটি টাকা
* প্রিপেইড কার্ড: প্রায় ৫৮ কোটি টাকা
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের একটি বাক্যে জুলাইয়ের ৯.৮৫ বিলিয়ন টাকা বহিঃপ্রবাহকে জুনের ১০.৩৭ বিলিয়ন টাকার তুলনায় বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সংখ্যাগুলো সরাসরি তুলনা করলে এটি সঠিক নয়। বরং ১০.৩৭ বিলিয়ন থেকে ৯.৮৫ বিলিয়ন টাকা কমেছে প্রায় ৫.০৫ শতাংশ। একই প্রতিবেদনের ক্রেডিট কার্ডের মাসিক তথ্যেও জুলাইয়ে ৫.৫২৭ বিলিয়ন থেকে ৫.২৫৯ বিলিয়ন টাকায় কমার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বিপরীতে বিদেশীরা দেশে খরচ করেছেন ২৩৪ কোটি
বিদেশে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে জুলাইয়ে বাংলাদেশে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৩৪৩ মিলিয়ন টাকা বা ২৩৪ কোটি টাকা। জুনে ছিল দুই হাজার ৪১৫ মিলিয়ন টাকা। এক মাসে কমেছে ৩ শতাংশ।
বিদেশিদের কার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় খাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরÑ ৩৫.১৫ শতাংশ। এরপর নগদ উত্তোলন ২৪.০৪, পরিবহন ১৩.৭৭ এবং পোশাক ৮.৯২ শতাংশ।
দেশভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশে বিদেশী কার্ড ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা সবচেয়ে এগিয়েÑমোট লেনদেনের ২২.০১ শতাংশ। ভারত ৯.১২, যুক্তরাজ্য ৮.৯৬, কানাডা ৪.৮১ এবং সিঙ্গাপুর ৪.১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জুলাইয়ে বাংলাদেশী কার্ডধারীদের বিদেশে ব্যয় বিদেশীদের বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুণ।
ক্রেডিট কার্ডে অনুমোদিত ঋণ ৪৩ হাজার কোটি টাকা
কার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত ঋণের পরিমাণও বড়।
জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৪৮টি তফসিলি ব্যাংক ও একটি এনবিএফআইয়ের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডে অনুমোদিত বিতরণযোগ্য ঋণের মোট সীমা দাঁড়িয়েছে ৪৩৩.২৯ বিলিয়ন টাকা বা প্রায় ৪৩ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কার্ড ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা বা আউটস্ট্যান্ডিং ছিল ১৪৫.৮৮ বিলিয়ন টাকা বা প্রায় ১৪ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।
অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার বড় একটি অংশ এখনো ব্যবহার করা হয়নি। তবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে ভোক্তা ঋণের মান, সুদভার এবং খেলাপির ঝুঁকিও নজরদারির বিষয় হয়ে উঠছে।
কার্ড অর্থনীতির নতুন চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ‘ক্যাশলেস ব্যাংকিং’ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে কার্ডভিত্তিক অর্থ লেনদেনকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়। পরে পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থাকে আইনি ভিত্তি দিতে চধুসবহঃ ধহফ ঝবঃঃষবসবহঃ ঝুংঃবস অপঃ, ২০২৪ কার্যকর হয় ৪ নভেম্বর ২০২৪।
এর পরিপ্রেেিত কার্ডভিত্তিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণও বিস্তৃত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে দেশে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও ৩৫টি এনবিএফআই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্যাংক ও একটি এনবিএফআই কার্ড সেবা দিচ্ছে। আবার ৪৮টি ব্যাংক ও একটি এনবিএফআইয়ের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড, ডুয়েল-কারেন্সি ডেবিট কার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রিপেইড কার্ডের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নগদ থেকে ডিজিটালÑ তবে ঝুঁকিও বাড়ছে
কার্ডের ব্যবহার বাড়ার ফলে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের গতিপথ শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে এবং নগদনির্ভরতার কিছু ঝুঁকি কমতে পারে।
তবে কার্ডের দ্রুত বিস্তারের সাথে সাইবার নিরাপত্তা, কার্ড জালিয়াতি, অননুমোদিত লেনদেন, গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভোক্তার আর্থিক সচেতনতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সারতার ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, নগদনির্ভর সংস্কৃতি, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি এবং লেনদেন ব্যয়ের মতো বিষয়কে ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটেছে প্রিপেইড কার্ডে। পাঁচ বছরে এর সংখ্যা ১৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি ইঙ্গিত করছে যে প্রচলিত ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের পাশাপাশি বিকল্প ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমের চাহিদাও বাড়ছে।
ফলে বাংলাদেশের কার্ড অর্থনীতি এখন শুধু ‘নগদের বিকল্প’ হিসেবে সীমিত নেই। দেশের অভ্যন্তরে দৈনন্দিন ভোগ, বিদেশে শিা-চিকিৎসা-ভ্রমণ ও সেবা গ্রহণ এবং বিদেশীদের বাংলাদেশে ব্যয়Ñ সব মিলিয়ে কার্ড এখন দেশের ভোক্তা অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের একটি দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠছে। একই সাথে বিদেশে বাংলাদেশী কার্ডধারীদের ব্যয় দেশের ভেতরে বিদেশীদের কার্ড ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় কার্ডভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা বহিঃপ্রবাহও নীতিনির্ধারকদের নজরে রাখার মতো একটি সূচক হয়ে উঠেছে।







