সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে করভার ১৭ থেকে ১ শতাংশে হ্রাস

বিশেষ সংবাদদাতা

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানিতে করের বোঝা ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল প্রকাশ করা নতুন এ সুবিধায় সৌর প্যানেল, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ইনভার্টার, ফটোভোলটাইক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং মনিটরিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম-সহ নির্ধারিত সরঞ্জাম আমদানিতে ১ শতাংশের বেশি কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, অ্যাডভান্স ট্যাক্স ও অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্সসহ অন্যান্য প্রযোজ্য কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সুবিধাটি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদেরও প্রথমবারের মতো দেয়া হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন কার্যকর থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু আমদানি ব্যয় কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ, অর্থায়নের প্রয়োজন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ক্রয়মূল্যের ওপর।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ ১৭ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কর কমেছে বলে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৬ শতাংশ কমে যাবেÑ এমন সরল হিসাব সঠিক নয়। কারণ ১৭ শতাংশ করের হিসাবটি মূলত আমদানিকৃত যোগ্য সরঞ্জামের ওপর প্রযোজ্য। একটি সৌর প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে জমি, উন্নয়ন ব্যয়, সিভিল ওয়ার্ক, গ্রিড সংযোগ, ট্রান্সমিশন, প্রকৌশল, অর্থায়ন ও অন্যান্য স্থানীয় ব্যয়ও থাকে।
যন্ত্রপাতির ওপর সরাসরি সাশ্রয় কত?
জুনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কার্যক্রমের আওতায় নির্দিষ্ট সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অ্যাডভান্স ট্যাক্সে ছাড় দেয়া হলেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স বহাল ছিল। ফলে মোট করভার দাঁড়িয়েছিল ১৭ শতাংশে। নতুন সিদ্ধান্তে সেটি ১ শতাংশে নামল। অর্থাৎ একই আমদানি মূল্যের ওপর করভার কমল ১৬ শতাংশ পয়েন্ট।
সহজ হিসাবে, ১০০ কোটি টাকার যোগ্য সৌর সরঞ্জাম আমদানি করলে আগে করভার ছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা; এখন তা প্রায় এক কোটি টাকায় নেমে আসবে। অর্থাৎ সরঞ্জামের আমদানি পর্যায়েই প্রায় ১৬ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তাহলে ১ মেগাওয়াট প্রকল্পে সাশ্রয় কত?
সাম্প্রতিক বাংলাদেশী প্রকল্পের ব্যয় দিয়ে এর একটি বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ স্কেলিং-আপ রিনিউএবল এনার্জি প্রকল্পের সমাপনী বিশ্লেষণে ৭৫ মেগাওয়াটের একটি ইউটিলিটি-স্কেল সৌর প্রকল্পের ঊচঈ ব্যয় প্রতি ওয়াটে ০.৮৮ ডলার এবং একটি আইপিপি সৌর প্রকল্পের েেত্র ১.১৬ ডলার/ওয়াট ধরা হয়েছিল।
অর্থাৎ ১ মেগাওয়াটের জন্য শুধু ইপিসি ব্যয় আনুমানিক ৮.৮ লাখ থেকে ১১.৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ হতে পারে। এক ডলারকে প্রায় ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে তা প্রায় ১০.৮ থেকে ১৪.৩ কোটি টাকা। বাস্তব প্রকল্পে জমি, গ্রিড, অর্থায়ন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে মোট বিনিয়োগ আরো বেশি হতে পারে।
এখন ধরতে হবে, মোট প্রকল্প ব্যয়ের কত অংশ নতুন কর-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানিকৃত সরঞ্জাম। যদি প্রকল্পের ৬০ শতাংশ ব্যয় যোগ্য আমদানি সরঞ্জামে যায়, তাহলে ১৬ শতাংশ পয়েন্ট কর-সাশ্রয় মোট প্রকল্প ব্যয়ে প্রায় ৯.৬ শতাংশ প্রভাব ফেলতে পারে।
আমদানিনির্ভরতা ৭০ শতাংশ হলে সম্ভাব্য প্রকল্প ব্যয় সাশ্রয় প্রায় ১১.২ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ হলে প্রায় ১২.৮ শতাংশ।
অর্থাৎ একটি কার্যকর আনুমানিক পরিসর হলো : আমদানিকৃত যোগ্য সরঞ্জামের অংশ ৬০-৮০ শতাংশ হলে মোট প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৯.৬-১২.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে এটি সিমুলেশন, এনবিআর বা বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষিত প্রকল্প-ব্যয় কমার পূর্বাভাস নয়। প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করবে প্রতিটি প্রকল্পের সরঞ্জাম কাঠামো, স্থানীয় ব্যয়, অর্থায়ন ব্যয় এবং করের হিসাব কিভাবে করা হচ্ছে তার ওপর।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দামেও কি প্রভাব পড়বে?
এর প্রভাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্যে। ২০২৬ সালে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে ১১টি সৌর আইপিপির জন্য গড়ে ৭.৮০ মার্কিন সেন্ট বা প্রায় ৯.১২ টাকা প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ট্যারিফের চুক্তি হয়েছে। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, আগের অনুরূপ প্রকল্পের তুলনায় এ হার প্রায় ২.৫ সেন্ট কম। অন্য দিকে ২০২৫ সালে নতুন সৌর প্রকল্পের প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে গড় দর ৮.২৭ সেন্ট/কিলোওয়াট-ঘণ্টায় নেমেছিল, যেখানে আগের গড় সৌর উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৩.২৯ সেন্ট।
এখানে কর-সুবিধার প্রভাবকে আলাদা করে দেখতে হবে। ধরা যাক, একটি প্রকল্পের মোট লেভেলাইজড ব্যয় বা ট্যারিফের ৭০ শতাংশ মূলধন ব্যয়ের সাথে সম্পর্কিত এবং কর-সুবিধার কারণে মূলধন ব্যয় ১১.২ শতাংশ কমল। তাহলে সরল আনুপাতিক হিসাবে মোট উৎপাদন ব্যয়ে প্রায় ৭-৮ শতাংশের মতো প্রভাব পড়তে পারে।
৯.১২ টাকা/ইউনিটের একটি কাল্পনিক ভিত্তি ধরে ৭ শতাংশ হ্রাস হলে তা প্রায় ৬৪ পয়সা কমে ৮.৪৮ টাকা হতে পারে; কিন্তু এটি বাস্তব নতুন ট্যারিফের পূর্বাভাস নয়; কারণ ট্যারিফে সুদের হার, ডলারের বিনিময় হার, ঋণের মেয়াদ, জমি, গ্রিড সংযোগ, উৎপাদন দতা, ক্যাপাসিটি ফ্যাক্টর এবং বিনিয়োগকারীর রিটার্নÑ সবই ভূমিকা রাখে।
অতএব কর কমার পুরো সুবিধা যদি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া যায়, তাহলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরো কমার সুযোগ তৈরি হবে।
৯১৮ মেগাওয়াট প্রকল্পে সম্ভাব্য প্রভাব
সরকার ইতোমধ্যে ৯১৮ মেগাওয়াটের ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চুক্তি করেছে, যেখানে গড় ট্যারিফ প্রায় ৭.৮০ সেন্ট বা ৯.১২ টাকা/ইউনিট। ২০ বছরে এসব প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কিনতে আনুমানিক ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
যদি নতুন কর-সুবিধা এসব প্রকল্পের দর চূড়ান্ত হওয়ার আগে কার্যকর হতো এবং তার সম্পূর্ণ সুবিধা দরপত্রে প্রতিফলিত হতো, তাহলে প্রকল্পের মূলধন ব্যয় কমার একটি অংশ ট্যারিফ কমাতে ব্যবহার করা যেত; কিন্তু যেসব প্রকল্পের চুক্তি ইতোমধ্যে স্বারিত, সেগুলোর েেত্র পরবর্তী কর-ছাড় সরাসরি সরকারি ক্রয়মূল্য কমিয়ে দেবেÑ এমনটি ধরে নেয়া যায় না।
এ কারণে নতুন সুবিধার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোতে, বিশেষ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি, আর্থিক সমাপ্তি ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
১৮০ দিনের সুযোগÑ আবার ঝুঁকিও
নতুন সুবিধাটি স্থায়ী কর কাঠামো নয়। এটি ১৮০ দিনের জন্য কার্যকর। ফলে বিনিয়োগকারীদের সামনে দ্রুত আমদানি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হলেও একই সাথে একটি নীতিগত প্রশ্নও থেকে যাচ্ছেÑ ছয় মাস পর কী হবে?
সৌর প্রকল্প সাধারণত শুধু যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর নির্ভর করে না। জমি নির্বাচন, পরিবেশগত অনুমোদন, পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট, অর্থায়ন, গ্রিড সংযোগ এবং নির্মাণসহ পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। তাই ১৮০ দিনের কর-সুবিধা যদি কেবল আমদানি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে, প্রকল্প উন্নয়নের দীর্ঘ সময়ের সাথে সেটির সামঞ্জস্য নাও থাকতে পারে।
এ েেত্র একটি স্থায়ী ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের অন্তর্ভুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন সিদ্ধান্তের একটি বড় পরিবর্তন হলোÑ প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক আমদানিকারকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট সুবিধা মূলত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পভিত্তিক আমদানির েেত্র সীমিত ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সরঞ্জাম আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এতে শুধু বড় ইউটিলিটি-স্কেল প্রকল্প নয়, শিল্পকারখানার রুফটপ সোলার, ব্যাটারি-সংযুক্ত সিস্টেম এবং ছোট ও মাঝারি প্রকল্পেও সরঞ্জামের দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে রুফটপ সোলারের েেত্রও সম্ভাবনা বড়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সমতা ছিল ৪১৮.১ মেগাওয়াট। অন্য দিকে আইইইএফএ-এর হিসাবে বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর প্রকল্পসহ বাস্তব বাজারের সমতা আরো বেশি হতে পারে।
শুধু কর কমালেই কি সৌরবিদ্যুতের বিপ্লব হবে?
এখানেই মূল প্রশ্ন। কর কমানো প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় কমাবে; কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বাড়াতে আরো কয়েকটি বাধা দূর করা জরুরি। প্রথমত, গ্রিড সংযোগ। নতুন সৌর প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সাবস্টেশন ও সঞ্চালন অবকাঠামো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, জমি। বড় সৌর প্রকল্পের জন্য বিপুল জমি প্রয়োজন এবং কৃষিজমি ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত প্রশ্ন রয়েছে। তৃতীয়ত, অর্থায়ন ব্যয়। ডলারে যন্ত্রপাতি আমদানি হলেও স্থানীয় সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ও ঋণের মেয়াদ প্রকল্পের ট্যারিফে বড় প্রভাব ফেলে। 
চতুর্থত, স্টোরেজ। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হলেও সন্ধ্যা ও রাতের চাহিদা মেটাতে ব্যাটারি বা অন্য ভারসাম্যকারী উৎস প্রয়োজন। নতুন কর-সুবিধার মধ্যে লিথিয়াম ব্যাটারিও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ েেত্র কিছুটা সুবিধা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাটারির মূল্য, আয়ু ও প্রতিস্থাপন ব্যয় আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। পঞ্চমত, নীতির ধারাবাহিকতা। গত কয়েক মাসেই সৌর সরঞ্জামের কর কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। আগস্টে শিল্পকারখানার রুফটপ সোলার নিয়ে ১৭ শতাংশ করভার নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছিল।
বিদ্যুৎ সঙ্কটের সময়ে সিদ্ধান্তটির কৌশলগত গুরুত্ব
বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজির দাম ও সরবরাহ সঙ্কট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যুতের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল এবং সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর সমতা তৈরির ল্য নিয়ে এগোচ্ছে।
এই বাস্তবতায় সৌরবিদ্যুতের মূলধন ব্যয় কমানোর অর্থ শুধু একটি প্রকল্প সস্তা করা নয়; দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিকৃত গ্যাস, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করা। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাও দ্রুত বাড়ছে। এসআরইডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সমতা  এক হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল।
সামনে তিনটি প্রশ্ন
নতুন কর-সুবিধার সাফল্য শেষ পর্যন্ত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। এক. কর-সাশ্রয়ের কতটা বিনিয়োগকারীর কাছে থাকবে এবং কতটা বিদ্যুতের ট্যারিফ কমাবে? দুই. ১৮০ দিনের মধ্যে কত মেগাওয়াট প্রকল্প বাস্তবে আর্থিক সমাপ্তি ও সরঞ্জাম আমদানির পর্যায়ে যেতে পারবে? তিন. ছয় মাস পর এই কর কাঠামো থাকবে কি নাÑ এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা কতটা নিশ্চয়তা পাবেন?
সৌর সরঞ্জামের করভার ১৭ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামানো তাই নিঃসন্দেহে আমদানি ব্যয়ের বড় পরিবর্তন। যোগ্য আমদানি সরঞ্জামের মূল্য যদি প্রকল্প ব্যয়ের ৬০-৮০ শতাংশ হয়, তাহলে সরল হিসাব অনুযায়ী মোট প্রকল্প ব্যয়ে প্রায় ৯.৬-১২.৮ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এই সুবিধা বাস্তবে বিদ্যুতের দাম কমাবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, অর্থায়ন ব্যয়, জমি ও গ্রিড ব্যয় এবং কর-সুবিধার কতটা প্রকৃতপে প্রকল্পে স্থানান্তরিত হচ্ছে তার ওপর।
অতএব, ১ শতাংশ করকে শুধু ‘সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি সস্তা হওয়ার’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ অর্থ ধরা পড়বে না। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে নতুন সৌর প্রকল্পের মূলধন ব্যয়, ট্যারিফ এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতার ওপর একসাথে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ১৮০ দিনের অস্থায়ী সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে রূপ দিতে হলে গ্রিড, জমি, অর্থায়ন এবং নীতির ধারাবাহিকতার সমস্যাগুলোও একই সাথে সমাধান করতে হবে।