জুনের আগেই ইউপির নির্বাচন, উপনির্বাচনেও থাকবে সেনা

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা প্রযুক্তির পাশাপাশি আরো উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সাথে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিা বিভাগ, টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন, মহাপরিচালক, বিজিবি/কোস্টগার্ড/আনসার ও ভিডিপি/ডিজিএফআই/এনএসআই/এনটিএমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, হেড অব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের েেত্র বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে শিা সংশ্লিষ্ট পগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন কোনোভাবেই পরীা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।  
নির্বাচনে শিক ও শিা কর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কমিশনার জানান, প্রশিণের সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য একজন শিককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি শিকদের খাতা মূল্যায়ন ও পরীার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছে এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। 
ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে ইসি আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন বাজেট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরো কিছু পার্শ্ববর্তী সমন্বয় বা সাইডলাইন ওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করবে। স্টাফ লেভেল ও সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলেই তা প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করলেও সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশন আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করছে। তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে। 
নির্বাচনের উপযুক্ত সময় খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে এই কমিশনার জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীা চলায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন পর থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীা। অন্য দিকে এসএসসি পরীা শেষ হওয়া এবং ৬ জুনে এইচএসসি পরীা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আবার কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের কারণে সব প্রক্রিয়া কিভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। 
আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। সংবাদমাধ্যমের খবরের প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। আজকের সমন্বয় সভার পর সব উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত উপাত্তগুলো পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।