
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সড়ক নিরাপত্তা, অধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বাস্তবায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহবান জানিয়েছে ট্রান্সপোর্ট প্রফেশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (টিপিএফবি)।
সংস্থাটি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা সম্ভব।
বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৭ নম্বর ধারায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষভাবে রূপান্তরিত মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের সনদ অনুযায়ী কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিশেষ উপায়ে রূপান্তরিত মোটরযান চালাতে সক্ষম হলে তাকে লাইসেন্স দেয়ার বিধান রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রান্সপোর্ট প্রফেশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (টিপিএফবি)-এর সভাপতি খান শোয়েব আমান উল্লাহ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অটোর প্রাথমিক ধারণার সাথে এই আইনি কাঠামোর সম্পর্ক রয়েছে।
টিপিএফবি দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতের পেশাজীবীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। শিশুদের জন্য সংস্থাটির ‘সড়ক সাথী’ কর্মসূচিও এর একটি উদ্যোগ।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৩৪ নম্বর ধারায় উল্লেখিত ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ বা প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। এ লক্ষ্যে সড়ক, ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলোতে হুইলচেয়ার র্যাম্প ও লিফট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরির আহবান জানানো হয়েছে।
এছাড়া দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য দেশের বিদ্যমান ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে বিশেষ অডিও ও ভিজ্যুয়াল নির্দেশনা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সড়ক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে টিপিএফবি।
সংগঠনটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষিত করে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগে শিল্পগোষ্ঠী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মডেলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) কার্যক্রমের পাশাপাশি আয়কর রেয়াত পাওয়ার আইনি সুযোগ পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্যোগটি জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (SDG) ৮, ১০ ও ১১ নম্বর লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে ৩ ও ৯ নম্বর লক্ষ্য অর্জনেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।







