প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন
তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দেখা করেন গোলা বিস্ফোরণে নিহত দুই সেনা সদসস্যের পরিবার : পিএমও

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

তুরস্কে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও এর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এই ক্ষতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ফোরামে বড় দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হবে। জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ হিসেবে না দিয়ে যেন অনুদান হিসেবে দেয়া হয়, সেটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দাবি থাকবে।
জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় কপ-৩১ এ পাট ও পাটজাত পণ্যকে পচনশীল ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের পথে’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে আগের সরকারের কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। বিনা ভোটের সরকারের সাথে আমাদের পার্থক্যটা এখানেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুরু করা বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি পৃথক অনুবিভাগ খোলা হয়েছে।  
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট সঙ্কট এবং বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে ১৩ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তারা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অঞ্চলে বসবাস করছে। এর ফলে বাংলাদেশে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির সাথে অতিরিক্ত পরিবেশগত চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত চাপ কমানো সম্ভব হবে।
শহীদ সেনাসদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহীদ সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ সেনাসদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাদের পরিবারের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানানো হয়। একই সাথে তাদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য মাসিক ভাতা দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য শহীদ হন। তারা হলেন- সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো: তাসনিম রিফায়াত।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জ্যাতি, শিশু কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব ও মা পারভীন আক্তার।
মো: তাসনিম রিফায়াতের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন, শিশুকন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা এবং বাবা মো: আসাদুল হক।