ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া
ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া। সংগৃহীত ছবি

কয়েকশ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির তদন্তের অংশ হিসেবে তুরস্কের সাবেক এক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন ও অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি আদালত বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কায়া ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তুরস্কের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) উপপ্রধান ছিলেন।

Advertisement

প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির পক্ষ থেকে ফাতমার বিরুদ্ধে বিনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বিপুল অর্থ লাভের অভিযোগ ওঠার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কিছু শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন। 

অভিযোগ অনুযায়ী, কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় শেয়ারবাজারে অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেনের (ইনসাইডার ট্রেডিং) অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে কায়া ক্ষমতাসীন দল থেকেও পদত্যাগ করেন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগ তহবিল-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর প্রভাব সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তুরস্ক। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপকভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা।

গত মঙ্গলবার তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, এ ঘটনায় বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : বাসস