
নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইসরাইল ছেড়ে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ছে। এতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জানায়, সোমবার রামাত গানে ইসরাইলি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত চিকিৎসকদের দেশত্যাগবিষয়ক এক সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে এ প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের ক্লালিত স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক থেকে প্রতিবছর গড়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা ২০১৯ সালের আগে ছিল ৯ জন। ২০২৩ সালের পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। অর্থাৎ, চিকিৎসকদের দেশ ছাড়ার হার বেড়েছে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কমিউনিটি মেডিসিনে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবছর গড়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা তিন থেকে বেড়ে ১৮ জন হয়েছে। অর্থাৎ, এ হার বেড়েছে ছয় গুণ। ক্লালিতের অধিভুক্ত হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দেশ ছাড়ার বার্ষিক গড় সংখ্যাও একই সময়ে ছয় থেকে বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের এভাবে ইসরাইল ছেড়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফলে তাঁদের চলে যাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্মেলনে আলোচনা ও উপস্থাপিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ইসরাইলে থেকে যাওয়া কিংবা বিদেশে কাজের সুযোগ খোঁজার সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের কাছে নিরাপত্তার উদ্বেগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইসরাইলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের দেশত্যাগ অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও মান—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








