ইসরাইলগামী ফ্লাইট, মুসলিম দেশ,  পাইলট, নিষিদ্ধ,এয়ার ফ্রান্স
এয়ার ফ্রান্স। মিডলইস্ট মনিটর

ইসরাইলের নির্দেশ মেনে দেশটিগামী ফ্লাইটে ৩১টি দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। এ তালিকায় আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের নাগরিকেরাও রয়েছেন। এমনকি এসব দেশের নাগরিকত্ব থাকা ফরাসি নাগরিকদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।

Advertisement

মিডলইস্ট আই ১১ অক্টোবর জানায়, অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইসরাইলের নির্দেশের পর এয়ার ফ্রান্স সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানিয়েছে, তারা আর ইসরাইলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন না। কর্মীদের দ্বিতীয় কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে তা জানাতেও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। এ নির্দেশ না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরাও এর ফলে ইসরাইলগামী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ হারাচ্ছেন। এ সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স। মিডিয়াপার্টের অনুসন্ধান নিয়ে বিমান সংস্থাটি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২ জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ জারি করে। নির্দেশ অনুযায়ী, ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। ওই দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একাই এ কাজ করেছেন। তবে ইসরাইল ও আমিরাতের দেয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। প্রকাশিত তথ্যের বাইরে ওই পাইলট সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়ার আগে তিনি ওমান এয়ার ও রয়্যাল এয়ার মারোকসহ কয়েকটি বিমান সংস্থায় কাজ করেছেন। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, দেশটির বিমান পরিবহন খাতে কর্মরত প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর পরিচয় ও অতীত যাচাই করছে অন্তত একটি ইসরাইলি বিমান সংস্থা।

মিডলইস্ট আই এয়ার ফ্রান্সের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।