সিরিয়া, কারাদণ্ড, বিক্ষোভ
সংখ্যালঘু আলিউয়িদের লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিপক্ষে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কামিশলিতে বিক্ষোভ। ২০২৫ সালের মার্চের ছবি ছবি: এএফপি

সিরিয়ার একটি কুখ্যাত কারাগারের সাবেক প্রধানকে নির্যাতন ও অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এ তথ্য জানিয়েছে।

৭৪ বছর বয়সী সামির উসমান আলশেখ ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দামেস্ক সেন্ট্রাল প্রিজন (স্থানীয়ভাবে ‘আদরা কারাগার’ নামে পরিচিত) পরিচালনা করেন। সেখানে ‘শাস্তি শাখায়’ বন্দীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিওজে জানায়, চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি আলশেখকে ‘নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ, ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

বিচারের সময় সাবেক তিন বন্দী সাক্ষ্য দেন। তারা আলশেখের হাতে নিজেদের ওপর চালানো নির্যাতন এবং অন্য বন্দীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মামলায় দেওয়া দণ্ড তার ভুক্তভোগীদের সাহসের প্রমাণ।’

নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে আলশেখকে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ডুভা আরো বলেন, ‘বার্তাটি স্পষ্ট- মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে এলেও এখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় পাবে না। আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং তাদের ভয়াবহ অপরাধের জন্য বিচার ও শাস্তির আওতায় আনব।’

ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) গোষ্ঠী ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বে একটি জোট ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করে। এরপর বহু সিরীয় নাগরিক নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন কারাগারে ছুটে যান।

সূত্র : এএফপি/বাসস