
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ‘ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব)’।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘টাইগার্স ডেন’-এ আয়োজিত এই সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের সদস্য, কোচিং স্টাফ, দলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন।
কোয়াবের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও দলের কর্মকর্তাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেয়া হয়। এরপর কেক কেটে ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করা হয়।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন অতিথিদের স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক।
আশরাফুল হক বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম টেস্ট মর্যাদা পেলাম, তখন অনেকেই আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করত। অনেকে ভাবত, টেস্ট মর্যাদা পেয়ে বাংলাদেশ আসলে কী করবে? কিন্তু এখন পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, আমরা সত্যিই অনেক কিছু অর্জন করেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের অবদানের কথা স্মরণ করে সিমন্স বলেন, ‘গত এক বছর ধরে এখানে থাকার সুবাদে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি, ওই সময়ে ড্রেসিংরুমে অনুভূতি কেমন হয়েছিল।’
এই সাফল্যের কৃতিত্ব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও নির্বাচক প্যানেলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এ ছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য কোয়াব ও বিসিবিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
শান্ত বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবাই বড় কৃতিত্বের দাবিদার। নির্বাচক প্যানেল যেভাবে কাজ করছে, তাতে আমি বলব সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এমন ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘এই টেস্ট ম্যাচটি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে আরো সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় দল যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা দেখার পর এটি যে আমাদের সবচেয়ে বড় জয় তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমার বিশ্বাস, এই ছেলেরা ভবিষ্যতে আরো বড় ও ভালো ফলাফল অর্জন করবে।’
সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে দলের আত্মবিশ্বাসের পেছনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় ও ঘরের মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের সাম্প্রতিক সাফল্যে ভূমিকা রয়েছে।
সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক প্যানেলের প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন জানান, অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।
বাংলাদেশী ব্যাটার লিটন দাস জানিয়েছেন, ফরম্যাট যা-ই হোক না কেন, দলের মূল লক্ষ্য সবসময়ই জয়। তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষকে উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য খেলোয়াড়রা প্রস্তুত রয়েছে।







