সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এমপি এ টি এম আজহারুল ইসলাম
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এমপি এ টি এম আজহারুল ইসলাম ছবি: নয়া দিগন্ত

ঢাকা থেকে রংপুরমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধসহ সাত দফার পাশাপাশি এবার যোগ হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। তিন হাজারেরও বেশি গাড়িবহরে সজ্জিত লংমার্চে পথিমধ্যে পাঁচ জেলায় হবে সমাবেশ। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা ও মহানগর জামায়াত অফিসে লংমার্চের সবশেষ প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

এতে বক্তব্য রাখেন সমাবেশের সভাপতি রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিমের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, মহানগর জামায়াত আমির এ টি এম আজম খান, মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে এ টি এম আজহার বলেন, ‘জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সাত দফা দাবির পাশাপাশি রংপুরের মানুষের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে রংপুর পার্টে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার দাবি। এই দাবি বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে ১১ দল।’

তিনি বলেন, ‘অন্য দাবিগুলো হলো— গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্রগ্রামের লংমার্চে আমাদের টার্গেট ছিল এক হাজার গাড়ি, কিন্তু হয়েছে দেড় হাজারেও বেশি। রংপুরের লংমার্চ নিয়ে আমরা বিপুল সাড়া পাচ্ছি। গাড়ি তালিকাভুক্ত শুরু হয়েছে। আশা করছি, তিন হাজারেরও বেশি গাড়ি বহরে যুক্ত থাকবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাড়ি তালিকাভুক্ত করেছেন, এখনো করছেন।’

মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান বলেন, ‘শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এরপর যাত্রা করে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।’

রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘লংমার্চের গাড়িবহর ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। আশা করছি, পাঁচ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।’ 

এদিকে এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ। পুরো নগরীজুড়ে টানানো হয়েছে ৩০০ মাইক। ৩৫টি স্থানে দেয়া হয়েছে এলইডি স্কিন। ৩০টি স্থানে লংমার্চের সাথে থাকা গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

লংমার্চ ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মহানগর পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে কাজ করবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন উপস্থিত থাকবেন।