নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন
নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। সংগৃহীত ছবি

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখনো পাঁচ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও নেপাল তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আংশিকভাবে স্থগিত করেছে।

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেপালের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব এলাকায় জীবিত বা নিখোঁজ কোনো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেসব এলাকায় সরকার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে। 

তবে তিনি বলেন, সুড়ঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান।

সীমান্তের নেপাল অংশে কমপক্ষে ছয়টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছিল। এসব স্থাপনায় প্রায় ৯০০ কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় এক হাজার ৪৫৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩ হাজার ৭৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো মোট পাঁচ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬৩৬ জন বিদেশী নাগরিক।

চীন অংশে মৃতের সংখ্যা ৪৩ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫১৯। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশী নাগরিক রয়েছেন। 

গত ২৬ আগস্ট এই দুর্যোগ আঘাত হানে। নেপালের মাউন্ট লাংটাং লিরুংয়ের পাঁচ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি হিমবাহে ফাটলের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এই ফাটলের ফলে বরফ ও পাথরের ধস নামে, যা পরবর্তীতে বিশাল ধ্বংসস্তূপের প্রবাহে পরিণত হয়ে সীমান্ত-সংলগ্ন উপত্যকাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের রাসুওয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও কাভরে জেলা এবং কাঠমান্ডু উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া শিজাংয়ের গিয়িরং সীমান্ত ক্রসিংটিও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি