
একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও অন্যটির ফলাফল অস্বীকার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় অস্বীকার করে সরকার রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চের প্রস্তুতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া, অথচ অন্যটির ফলাফল অস্বীকার করা দ্বিচারিতা ও জনগণের সাথে বিশ্বাস ভঙের শামিল। সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে এখনো দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন। জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িত, বিশেষ করে যারা এখনো গ্রেফতার হয়নি, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি। সরকারের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব বন্ধেরও আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সকাল ৮টায় প্রায় ছয় শতাধিক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরটি প্রায় দেড় হাজারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেবেন।
লংমার্চের সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন। সকাল ৮টায় প্রায় ছয় শতাধিক গাড়ি নিয়ে লংমার্চের মূল বহর যাত্রা শুরু করবে। পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরটি প্রায় দেড় হাজার গাড়িতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায়, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টায়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে দুপুর সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের একটি পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জাহিদুর রহমান ও আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








