অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
কথা বলছেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। নয়া দিগন্ত

নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ না করে রোড পারমিটসহ একটি কার্যকর নীতিমালার আওতায় এনে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। একইসাথে রাজধানীর বাইরে থেকে ঢাকায় প্রবেশকারী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি ও আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘নীতিমালার মাধ্যমে আমাদের সুশৃঙ্খল হতে সহযোগিতা করা হোক। ঢাকার বাইরে থেকে আসা অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট পয়েন্টে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করলেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শ্রমজীবী মানুষের যৌক্তিক দাবির পক্ষে অবস্থান করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অর্জনে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময়ও হাজার হাজার রিকশা শ্রমিক ও মালিক স্বৈরাচারী হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আহত ও নিহতদের হাসপাতালে পৌঁছাতে রিকশা ও রিকশাচালকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তখন কোনো অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। তাদের অবদান অস্বীকার করে সব দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আতিকুর রহমান বলেন, কোনো নীতিমালা প্রণয়ন না করে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করা উচিত নয়। একইভাবে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে হকারদের উচ্ছেদও সমর্থনযোগ্য নয়। শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও পরিবারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে কাউকে অবৈধ ঘোষণা করা যায় না। সরকারকে আমরা আহ্বান জানাব—সড়ক ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করুন এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের পথ বের করুন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরো বলেন, অটোরিকশা চলাচল নিয়ে দুর্ঘটনা ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে একদিকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে শ্রমিকদের জীবিকা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন রিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, রিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মহিবুল্লাহ এবং শ্রমিক নেতা এস এম শাহজাহান। 

এ সময় সভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার যৌক্তিক ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান।