মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতে ইসলামী, বিজিএমইএ, বাটেক্সপো ২০২৬, বাটেক্সপো
বাটেক্সপোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ঐতিহ্য রাখার আহবান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) আয়োজনে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর পর বিজিএমইএর আয়োজনে বাটেক্সপো ফিরছে। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য এ আয়োজনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার বার্তা দিতো।

গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত বিজিএমইএর নিজস্ব বিষয়। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা হলে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যের বার্তা আরো শক্তিশালী হতো।

তিনি বলেন, বাটেক্সপো শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা নয়; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ও দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই রাজনৈতিক অতিথি নির্বাচন ও সামগ্রিক উপস্থাপনায় আরো বিস্তৃত জাতীয় ভাবনা ও পেশাদার কৌশল প্রয়োজন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো অনিচ্ছাকৃত বার্তা যেন বিদেশী ক্রেতা, বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে না যায়, সে বিষয়টি একটি জাতীয় শিল্প সংগঠনের বিবেচনায় থাকা উচিত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার বা সংগঠনের একক সম্পদ নয়। এ শিল্পের সাথে লাখ লাখ শ্রমিক, হাজার হাজার উদ্যোক্তা এবং দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতা জড়িত। তাই জাতীয় শিল্পের আয়োজনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বদলে সহযোগিতা ও ঐকমত্যের পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সক্ষমতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরতে বিজিএমইএর প্রতি আহবান জানান তিনি।