ইউক্রেন, শান্তি আলোচনা, সামরিক কর্মকর্তা,  কূটনীতিক, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত,
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সাথে আলোচনায় এবার সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের পাঠাচ্ছে রাশিয়া। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে তিন দেশের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারির পর এবারই প্রথম এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হতে যাচ্ছে।

Advertisement

পাকিস্তানের ওয়েবসাইট দ্য নিউজ শনিবার (৭ নভেম্বর) জানায়, রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। প্রধান আলোচক হিসেবে এবারো দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। প্রতিনিধিদলে এবারই প্রথম থাকছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এবং জেনারেল স্টাফের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউরি ঝিগারলভস্কি।

রিয়াবকভ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত বিষয়গুলোও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঝিগারলভস্কি জেনারেল স্টাফের প্রধান অপারেশনস অধিদপ্তরের উপপ্রধান। সামরিক পরিকল্পনা ও অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব এ অধিদপ্তরের।

Advertisement

প্রতিনিধিদলে আরো থাকবেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইগর কোস্তিউকভ। এর আগে বিভিন্ন আলোচনায় তাঁরাও অংশ নিয়েছেন।

শুক্রবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সব সদস্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের একটি অংশ আসন্ন আলোচনা নিয়ে প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত ছিল। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বৈঠকের শুরুতে আলোচনার আয়োজন করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানান পুতিন। প্রতিনিধিদলের সাথে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকের বাকি অংশ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

শীত আসার আগেই দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানে কোনো অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।

সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এর ফলে কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা রেখা নির্ধারণ এবং অসামরিকীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মতো বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির মৌলিক শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। তাই এ বহুমাত্রিক আলোচনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকেরা।