
শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সামরিক শক্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১,০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ করার এবং তাতে জেতার প্রস্তুতি নিতে হবে যুক্তরাজ্যকে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (২৬ অক্টোবর) জানায়, শনিবার ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে স্ট্রিটিং বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিপক্ষ দেশগুলো হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও তার ন্যাটো মিত্রদের প্রস্তুতির জন্য সময় থাকবে তিন বছরের কিছু বেশি।
স্ট্রিটিং লিখেছেন, ‘আমাদের ক্ষতি করার জন্য প্রতিপক্ষের আগ্রহ নতুন নয়। পরিবর্তন এসেছে তাদের সক্ষমতায়। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সামরিক শক্তি ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন তারা হামলা চালাতে সক্ষম হবে। আমাদের হাতে তাই এক হাজার দিনের কিছু বেশি সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে মিত্রদের সাথে লড়াই করার এবং যুদ্ধে জেতার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে তার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। আমার প্রধান অগ্রাধিকার হলো, যুক্তরাজ্য যেন যুদ্ধ করতে এবং জিততে প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করা।’
শত্রু রাষ্ট্রের হুমকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কথাও বলেছেন স্ট্রিটিং। এসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের বেশির ভাগ সময়, এমনকি পুরো সময়ের মধ্যে, যুক্তরাজ্য এখনকার মতো এত বড় হুমকির মুখে পড়েনি।’
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার মধ্যেই সরকার ‘বি রেডি’ নামে নতুন প্রচারাভিযান শুরু করেছে। জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে অন্তত তিন দিন চলা যায়, সে জন্য ঘরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখতে পরিবারগুলোকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
সরকারের নির্দেশনায় বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জাতীয়ভাবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
স্ট্রিটিংয়ের মতে, ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ও ‘গ্রে জোন হুমকি’র মতো পরিভাষা দিয়ে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আসা বিপদের মাত্রা যথাযথভাবে বোঝানো যায় না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিররকে তিনি বলেন, ‘পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত কি না, তারা জানে কি না কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে—এসব প্রশ্ন তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে দেখা দিতে পারে, এমন সংকট মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত, তা জানতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই হুমকিগুলো কাল্পনিক নয়, বাস্তব। এগুলো শুধু অন্য কোথাও ঘটছে না, ক্রমেই আমাদের কাছেও এসে পৌঁছাচ্ছে। তাই জাতীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিকভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
সাইবার হামলা ও দাবানল নিয়েও উদ্বেগ
প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সরকার সাম্প্রতিক একটি পিএইচপি সফটওয়্যারের নিরাপত্তাত্রুটির কথাও উল্লেখ করেছে। বুধবার ২১ অক্টোবর ওই ত্রুটির তথ্য প্রকাশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। এ ঘটনায় লাখ লাখ হ্যাকিং প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং কিছু সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে হামলাকারীদের জন্য প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সহজ হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সাইবার হামলার ঘটনা আরো বাড়তে পারে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও। দাবানল মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠকে তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাজ্যকে অনেক সময় পরিস্থিতির পেছনে পড়ে থাকতে হয়েছে। এবার আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ লক্ষ্যে নতুন দাবানল মোকাবিলা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। এতে সামরিক বিমান মোতায়েনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিবিসিকে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এটা আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় নয়। পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়লে যাতে কয়েক দিন চলা যায়, সে জন্য ঘরে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার মতো কিছু বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেয়াই এর উদ্দেশ্য।’
যুক্তরাজ্যের এই পরামর্শের সাথে ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের মার্চে দেয়া নির্দেশনারও মিল রয়েছে। ওই নির্দেশনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতি কিট রাখতে বলা হয়েছিল। এতে খাবার, পানি, নগদ অর্থ ও মোবাইল বা অন্যান্য যন্ত্র চার্জ দেয়ার জন্য পাওয়ার ব্যাংকের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








