গভীর সঙ্কটে ইরাকের অর্থনীতি

আলজাজিরা
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া সামরিক সঙ্ঘাত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ইরাকে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটি। চলমান বাস্তবতাকে অভূতপূর্ব হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি জানান, সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এখন এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
রফতানি বন্ধে ৬০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি
ইরাকের রাষ্ট্রীয় বাজেটের ৯০ শতাংশের বেশি জোগান আসে খনিজ তেল বিক্রি থেকে। তবে পারস্য উপসাগরীয় জলসীমায় তৈরি হওয়া অচলাবস্থার কারণে দেশটির মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় এই চরম সঙ্কট তৈরি হয়, যার ফলে ইরাক ইতোমধ্যে প্রায় ছয় হাজার কোটি (৬০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রাজস্ব হারিয়েছে।
পণ্য সরবরাহে বিঘœ ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি
আমদানির ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় প্রধান বাণিজ্যিক পথগুলোতে স্থবিরতার ধাক্কা লেগেছে ইরাকের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলোতে। চীন ও তুরস্কের মতো প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো থেকে মালামাল আসার দীর্ঘায়িত বিলম্ব হচ্ছে। বিকল্প ও দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে গিয়ে পরিবহন ব্যয় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।