
এএফপি
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাণহানিকে পুরো বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য এক জরুরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ক্ষতি মোকাবেলায় নেপালকে আর্থিক ও কারিগরি সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দানকালে বালেন্দ্র শাহ উল্লেখ করেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নাজুক হিমালয় পর্বতমালার প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জমাটবাঁধা প্রাচীন বরফ ও পারমাফ্রস্ট গলতে শুরু করায় অনাকাক্সিক্ষত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। উল্লেখ্য, গত মাসের শেষভাগে নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ ধসের জেরে সুনামি সদৃশ তীব্র ঢল নেমে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। এই মারাত্মক জলবায়ুজনিত ঘটনায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ছয় হাজার নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সার্বিক অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
জলবায়ু গবেষকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘ দিনের বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সমন্বিত আঘাত, যা পলি ও হিমবাহ গলনের হার বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেপালি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে নির্গত ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাসের শূন্য দশমিক এক শতাংশেরও কম উৎপাদিত হয় নেপালে। তা সত্ত্বেও এই মানবসৃষ্ট সঙ্কটের মারাত্মক মাশুল তাদের গুনতে হচ্ছে। সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক ব্যবস্থার ব্যর্থতায় সৃষ্ট এ সঙ্কট একা নেপালের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ভারত, চীন ও নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামের একটি যৌথ আঞ্চলিক জোট গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন তিনি। এর অধীনে কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য ভাগাভাগি, কারিগরি পরামর্শ আদান-প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ নজরদারি এবং যৌথ দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের ওপর ভর করে মাত্র ছয় মাস আগে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেন ৩৬ বছর বয়সী সাবেক রথ্যাপার বালেন্দ্র শাহ। দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে সরকার গঠন করলেও, সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতির দিকে ধাবিত হয়েছে।








