জাতিসঙ্ঘে নজিরবিহীন বয়কটের মুখেও নেতানিয়াহুর আস্ফালন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে ৮১তম সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ওয়াকআউট করছেন প্রতিনিধিরা : ইন্টারনেট।

বিবিসি ও রয়টার্স
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের নজিরবিহীন বয়কট ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে গাজা ও ইরানে ইসরাইলি হামলার সাফাই গাইলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য দেয়ার সময় বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও সেসব তোয়াক্কা না করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। নেতানিয়াহু জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে প্রতিবাদ জানিয়ে সারিবদ্ধভাবে কক্ষ ত্যাগ করেন কয়েক ডজন দেশের কূটনীতিকরা। এই ঘটনার মুখেও নিজেকে শক্ত রেখে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমরাই জিতব, আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।
প্রতিবাদকারী কূটনীতিকদের দিকে তির্যক বার্তা ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘হলরুমে যদি এখনো কোনো নৈতিক কাপুরুষ থেকে থাকেন, তবে দয়া করে এখনই বেরিয়ে যান।’ একই সাথে গাজায় গণহত্যা চালানোর আন্তর্জাতিক অভিযোগ অস্বীকার করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুর এই ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতিসঙ্ঘের বার্ষিক সম্মেলনে ভিডিও বার্তা দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
বিশ্বনেতাদের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘তারা ক্ষুদ্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে উপনিবেশবাদের অভিযোগ তুলছে, কী আজব কথা! আর এই আঙুল তুলছে কারা? ব্রিটেন আর ফ্রান্সের মতো দেশ, যে শব্দের জন্মই হয়েছে ওদের হাতে!’ 
শৈশব ও কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে নিজের প্রভাব জাহির করে আসছেন। তবে ওয়াশিংটন থেকে বিপুল সামরিক সহায়তা পেলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনমত এখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যেও ইসরাইল নীতি নিয়ে এখন তীব্র দ্বিমত তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই ঝাঁজালো বক্তব্য ছিল মূলত আগামী মাসের ইসরাইলি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাজানো এক রাজনৈতিক কৌশল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর এটিই সেখানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। হামাসের সেই আকস্মিক হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার পর নেতানিয়াহুর ‘মি. সিকিউরিটি’ ইমেজ গুঁড়িয়ে যায়।
আগাম গোয়েন্দা তথ্য উপেক্ষা করার অভিযোগ অস্বীকার করলেও জনমত জরিপে বেশ পিছিয়ে আছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসঙ্ঘের মঞ্চে একা লড়াই করার এই নাটকীয় রূপ দেশের ডানপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহার করবেন তিনি।