
এএফপি ও রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ডেনমার্ক ও তার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের সাথে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্কটিক দ্বীপটি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্যের পর পশ্চিমা মিত্রদের সম্পর্কে যে তীব্র কূটনৈতিক সঙ্কট ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটল।
অনুষ্ঠান শেষে এই সমঝোতাকে টেকসই ও ইতিবাচক অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সবার জন্যই চমৎকার একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সূচনা করবে। দশ পৃষ্ঠার এই সমঝোতা দলিলে ‘ডেনমার্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। চুক্তির মূল ধারার অধীনে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগে নতুন দু’টি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে আগে থেকেই পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম যথারীতি বজায় থাকবে। একইসাথে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বৃদ্ধি ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত খাতগুলোতে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেকোনো দেশের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এমনকি ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড যদি ভবিষ্যতে ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনও করে, তবুও চুক্তি অনুযায়ী তাদের এই নিরাপত্তার শর্ত মেনে চলতে হবে এবং ন্যাটোর সাথে যুক্ত থাকতে হবে।
গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোর দিয়ে আসছিলেন। এতে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। মূলত রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত আকাশপথে অবস্থিত হওয়ায় ট্রাম্পের কাক্সিক্ষত ‘গোল্ডেন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ছাড়া মেরুর বরফ গলে নতুন আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত হওয়া এবং দ্বীপটিতে অপরিক্ষিত বিরল খনিজ সম্পদের বড় মজুদ থাকাও এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের বড় কারণ। সমঝোতা সইয়ের পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তি অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং প্রতিপক্ষকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও দেশে ফিরে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনে কাজ করার তাগিদ দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস একে আটলান্টিক পারের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি শুভ পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। মূলত ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত ও ২০০৪ সালে হালনাগাদ করা প্রতিরক্ষা চুক্তিরই এটি একটি আধুনিক এবং পরিবর্ধিত রূপ।








