
সিএনএন
রাশিয়া ইউক্রেন সঙ্ঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধ বিস্তৃত করতে পারে- এমন চরম আশঙ্কার দোলাচলে নিরাপত্তা জোরদার করছে পুরো মহাদেশ। মিত্র বেলারুশের সাথে রাশিয়ার সামরিক মহড়া, অবকাঠামোর সুরক্ষাবলয় নির্মাণ, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং নাগরিকদের আগাম সতর্কবার্তার মধ্য দিয়ে ইউরোপজুড়ে এক নতুন যুদ্ধকালীন আবহ তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সংবেদনশীল ‘সুওয়ালকি গ্যাপ’ সংলগ্ন এলাকায় বেলারুশ ও রাশিয়া যৌথ সামরিক প্রদর্শনী চালিয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলের তিন দেশ লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াকে ন্যাটোর মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা এই সরু করিডোরটি কৌশলগতভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘটনার পরপরই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক গোপনীয় গোয়েন্দা পর্যালোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। অন্য দিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সশব্দে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে পরবর্তীতে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক রূপ দেখে ব্রিটেনের নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পানীয় মজুদের পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর প্রধান স্বীকার করেছেন, দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। জার্মানি সম্ভাব্য হামলা মাথায় রেখে হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস একে ইউরোপের শান্তি রক্ষার ‘নির্ণায়ক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডও নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার শুরু করেছে। পরিস্থিতির মোড় বুঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা জানিয়েছেন।







