আর্জেন্টিনা, মেসি, ওতামেন্দি
সতীর্থদের সাথে অনুশীলনে নিকোলাস ওতামেন্দি । সংগৃহীত

মেসির সাথে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন আরো এক আর্জেন্টাইন তারকা। তিনি আর কেউ নন; মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু নিকোলাস ওতামেন্দি।

Advertisement

বিদায়ের মঞ্চে তিনিও আবেগঘন গল্প লিখেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেই গোল করেন এই ডিফেন্ডার। আর সেই গোলের কারিগর আর কেউ নন, তার সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু। 

মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ওতামেন্দি। শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণের বাম দিক থেকে কর্নার নেন মেসি। তার নেয়া বল সরাসরি গিয়ে পড়ে পেনাল্টি স্পটের কাছে। দৌড়ে এসে অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে সেটিকে জালে পাঠান ওতামেন্দি।

গোলের পরই আবেগঘন দৃশ্য। ওতামেন্দি ছুটে যান কর্নার পতাকার কাছে, আর তাকে জড়িয়ে ধরেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে গোল- তার ওপর সেই গোলের সহায়তাকারী মেসি।

ম্যাচ শেষে নিজের শেষ গোল নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ওতামেন্দি। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি। এই ম্যাচটি ছিল বাড়তি পাওয়া, আমি আগেই বিদায় জানিয়েছিলাম। কিন্তু ১০ নম্বরের ডাকে এখানে এসে তার বিদায় উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি। এটি তার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। জাতীয় দলের সাথে আমার ১৭ বছর কেটেছে এবং তার সাথে এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারাটা দারুণ ছিল। শেষ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোল করা এমন কিছু, যা আমি সারাজীবন সাথে নিয়ে চলব।’

গোল করার পর অবশ্য বেশি সময় মাঠে থাকেননি ওতামেন্দি। চার মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে ওঠে করতালির ঝড়। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো সমর্থকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। বিদায়ের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমুও দেন তিনি।

এরপর মেসির প্রশংসায় ওতামেন্দি বলেন, ‘সবচেয়ে সাধারণ ও বিনয়ী মানুষদের একজন হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার ফুটবল প্রতিভা দেখানোর জন্য এবং আর্জেন্টিনার পতাকাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার জন্যও ধন্যবাদ।’

বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচ। ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ১৪০ ম্যাচ। করেছেন ১০ গোল। জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা- ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা।