আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একইসাথে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Advertisement

বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

জর্জিয়েভা বলেন, করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এর সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং সঙ্কট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

আইএমএফ প্রধান বলেন, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আগেই সরকারগুলোকে রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। একইসাথে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

সংস্থাটি মনে করে, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। তাই মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নির্বিচারে ভর্তুকি বা ব্যাপকভিত্তিক সহায়তার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। এতে সীমিত সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।

স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর উদ্যোগও বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এসব দেশের অনেকেরই রাজস্ব আয় সীমিত, ঋণের চাপ বেশি এবং বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবিলার সক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল। ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি ব্যয় সামাল দেয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহায়তা দেওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরো চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সঙ্কট মোকাবিলায় আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।